1 Answers

শব্দ ও পদ সম্পর্কে শামিমের পার্থক্যকে আমি অবশ্যই যথার্থ বলে মনে করি। শামিমের বক্তব্যের প্রসঙ্গে বলতে হয়, যে সকল শব্দ বা শব্দসমষ্টি অন্য শব্দের সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে পদ বলে। প্রকৃতপক্ষে, শব্দের মাধ্যমে পদ গঠিত হলেও শব্দ এবং পদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা বাক্যের বা বচনের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে 'পদ' বলে। আর ধ্বনি বা অক্ষরের অর্থপূর্ণ সমষ্টিকে শব্দ বলে। শব্দ বা শব্দের সমষ্টি নিয়ে পদ গঠিত হয় এবং ধ্বনি বা অক্ষরের সমষ্টি নিয়ে শব্দ গঠিত হয়। প্রত্যেকটি পদই শব্দ, কিন্তু প্রত্যেকটি শব্দ পদ নয়। কারণ যে শব্দগুলো কেবল বাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোই পদ; যেগুলো উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না, সেগুলো কেবলই শব্দ। একটি যৌক্তিক বাক্যে বা যুক্তিবাক্যে দুটির অধিক পদ থাকা সম্ভব নয়। পদ হলেই সেটি হবে 'উদ্দেশ্য পদ' ও 'বিধেয় পদ'। কিন্তু একটি যুক্তিবাক্যে বহু শব্দ থাকতে পারে। যেমন- 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা হয় মেধাবী'- এই যুক্তিবাক্যে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীরা' হলো উদ্দেশ্য পদ এবং 'মেধাবী' হলো বিধেয় পদ। একটি পদের কেবল একটিই অর্থ থাকে, কিন্তু একটি শব্দের একাধিক অর্থ থাকতে পারে। যেমন- পানি/পাণি বলতে পানীয় জল হতে পারে, আবার 'হাত'ও বোঝাতে পারে। কিন্তু যে শব্দটি উদ্দেশ্য বা বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে তার দ্ব্যর্থক অর্থ থাকতে পারে না। 'পদ' দ্বারা কেবল চিন্তা প্রকাশিত হয়, আবেগ, ইচ্ছা, অনুভূতি প্রকাশিত হয় না। কিন্তু 'শব্দ' দ্বারা 'বিস্ময়', 'সংশয়', 'আবেগ', 'ইচ্ছা', 'অনুভূতি' ইত্যাদি প্রকাশিত হয়।

4 views

Related Questions