1 Answers
উদ্দীপকে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতক্রমে হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মটির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। এই নিয়মের ক্ষেত্রে একটি বাড়লে অন্যটি কমে। অর্থাৎ পদের ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে, জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে। অন্যদিকে ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে, জাত্যর্থ কমলে ব্যার্থ বাড়ে। তবে পদে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যকার নিয়মটি ত্রুটিপূর্ণ। এই নিয়মটি একটি ভ্রান্ত ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। বাস্তবে কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ অথবা জাত্যর্থ কোনোটিরই পরিবর্তন হয় না। একটি পদ সব সময়ই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থকে নির্দেশ করে এবং একটি সুনির্দিষ্ট জাত্যর্থকে প্রকাশ করে। অর্থাৎ পদের ব্যার্থ ও জাত্যর্থ অপরিবর্তনীয়। নিম্নে এ নিয়মটির দুটি ত্রুটি বা অপূর্ণতা ব্যাখ্যা করা হলো:
(১)। এই বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মটি কোনো একক পদের ক্ষেত্রে প্রাযোজ্য নয়। কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ অথবা জাত্যর্থ বাড়িয়ে দিলে বা কমিয়ে দিলে পদটি আর সে পদ থাকে না। একটি নতুন পদের সৃষ্টি হয়। ফলে নিয়মটি সেখানে আর খাটে না।
(২) কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদের ব্যক্ত্যর্থকে বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু তার জাত্যর্থ অপরিবর্তনীয় থাকে। যেমন- একটি নতুন দ্বীপের আবির্ভাব ঘটার পর দ্বীপ পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে যায়, কিন্তু তার জাত্যর্থ কমে না। আবার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদের জাত্যর্থকে বাড়তে দেখা যায়। কিন্তু তার ব্যক্ত্যর্থ অপরিবর্তনীয় থাকে। যেমন- গবেষণার ফলে সোনা ধাতুর একটি নতুন গুণ আবিষ্কৃত হতে পারে, কিতু তাতে সোনার ব্যক্ত্যর্থের কোনো পরিবর্তন হবে না।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যকার হ্রাস- বৃদ্ধির নিয়মটি ত্রুটিমুক্ত নয়। কয়েকটি সমজাতীয় শ্রেণিবাচক পদকে জাতি ও উপজাতির আকারে ক্রম অনুসারে সাজালেই কেবল এই নিয়মটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। অন্যথায় নিয়মটি অর্থহীন।