1 Answers

উদ্দীপকের মানুষ পদের উক্ত অর্থাৎ জাত্যর্থের সাথে এর সংখ্যাগত অর্থাৎ ব্যক্ত্যর্থের একটি বিপরীত সম্পর্ক আছে। এক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থ হলো কোনো পদের সংখ্যার দিক এবং জাত্যর্থ হলো কোনো পদের গুণের দিক। একই পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ কখনোই সমান হয় না। যুক্তিবিদগণ দেখিয়েছেন যে, এর পরিমাণ সর্বদা বিপরীতক্রমিক হয়। অর্থাৎ ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতক্রমে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। একে যুক্তিবিদ্যায় একটি নিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই নিয়মকে চারটি অংশে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, যখন কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায় তখন জাত্যর্থ কমে যায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ যদি সৎ মানুষের থেকে আমরা মানুষ এবং জীব এভাবে অগ্রসর হই তাহলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়বে। কেননা সং মানুষের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেশি। আবার মানুষের তুলনায় জীবের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু এই ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে যাওয়ায় জাত্যর্থ কমতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, যখন কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ কমতে থাকে তখন জাত্যর্থ বেড়ে যায়। যদি আমরা জীব থেকে ক্রমশ সৎ মানুষের দিকে অগ্রসর হই তা হলে ব্যক্ত্যর্থ কমতে থাকবে। কেননা জীবের তুলনায় মানুষের সংখ্যা কম। কিন্তু মানুষের গুণ বা জাত্যর্থ জীবের তুলনায় বেশি। আবার মানুষের তুলনায় সৎ মানুষের সংখ্যা বা ব্যক্ত্যর্থ কম হলেও সৎ মানুষের জাত্যর্থ বেশি। তৃতীয়ত, যখন কোনো পদের জাত্যর্থ বেড়ে যায়, তখন তার ব্যক্ত্যর্থ কমতে থাকে। যেমন: জীব থেকে মানুষ, মানুষ থেকে সৎ মানুষ এই প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হলে জাত্যর্থ ক্রমশ বাড়তে থাকবে। কিন্তু জীবের তুলনায় মানুষের এবং মানুষের তুলনায় সৎ মানুষের ব্যক্ত্যর্থ কমবে। চতুর্থত, যখন কোনো পদের জাত্যর্থ কমে তখন ঐ পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে যায়। যেমন: সৎ মানুষ থেকে মানুষ এবং জীব এভাবে অগ্রসর হলে জাত্যর্থ কমতে থাকে কিন্তু ব্যক্ত্যর্থ বাড়তে থাকে। সৎ মানুষের তুলনায় মানুষ ও মানুষের তুলনায় জীবের জাত্যর্থ কম। কিন্তু সৎ মানুষের তুলনায় মানুষ এবং মানুষের তুলনায় জীবের ব্যক্ত্যর্থ বেশি।

5 views

Related Questions