1 Answers

উল্লিখিত বিষয় বলতে উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যার কথা বলা হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের সাথে অনেক স্কুল-কলেজের ইতিহাস সম্পর্কিত। প্রথমেই পিথাগোরীয়ান দার্শনিক সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা পিহাগোরাস 'সংখাতত্ত্ব' নামে পরিচিত গণিত শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনকারী এক দার্শনিক তত্ত্বের প্রবর্তন করেন। এরপর এসিয়াটিক সম্প্রদায়ের দার্শনিক পারমেনাইডিস। পারমেনাইডিসের চেয়ে উন্নত যুক্তি ব্যবহারের উদাহরণ মেলে তার শিষ্য দার্শনিক জেনোর দর্শনে। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের দিকে যুক্তি ব্যবহার করে পেশাদারি তাত্ত্বিক হিসাবে আবির্ভূত হন সোকিস্ট নামক একদল গ্রিক চিন্তাবিদ। মহান সক্রেটিসের গুণমুগ্ধ ছাত্র প্লেটো যুক্তিবিদ্যার মৌলিক কিছু বিষয় বা ধারণা নিয়ে তিনি আলোচনার সূত্রপাত করেন, গঠনমূলক চিন্তা পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসাবে এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাই তিনি যুক্তিবিদ্যার জনক হিসাবে সমাদৃত হন। প্রাচীন চীনে মোজি নামক একজন চিন্তাবিদ যুক্তিবিদ্যায় কিছু অবদান রেখেছেন। ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার সূচনা হয় গৌতম বুদ্ধের মাধ্যমে। তিনিই মূলত 'ন্যায়' দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। ঋষভ দেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জৈন দর্শন সম্প্রদায় অবধারণ, অনুমান, যুক্তিপ্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। মধ্যযুগে যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে যে সকল মুসলিম মনীষী অবদান রাখেন তার মধ্যে উল্লেখাযোগ্য হলেন : আল-কিন্দি, আল-ফারাবি, ইবনে সীনা, আল-গাযযালি এবং ইবনে রুশদ। এর পরে অ্যান্টনি আরনল্ড, পিয়ারে নিকোলি, জন স্টুয়ার্ট মিল, হেগেল, ব্রাডলি প্রমুখ। যুক্তিবিদ্যার সাম্প্রতিক ধারাটি শুরু হয় গাণিতিক ধারার যুক্তিবিদ জর্জ বুলির মাধ্যমে। এছাড়াও বার্ট্রান্ড রাসেল হোয়াইটহেড, ভিটগেনস্টাইন প্রমুখ দার্শনিক যুক্তিবিদ্যার উন্নতিতে অবদান রেখেছেন।

5 views

Related Questions