1 Answers
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, যুক্তি হলো চিন্তার ভাষায় প্রকাশিত রূপ আর যুক্তিবিদ্যা হলো যুক্তির বৈধতা বিচারকারী বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যা দর্শনের মূল্যবিদ্যার একটি বিশেষ উপশাখা মাত্র। যুক্তিবিদ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ধারার ক্ষেত্রে প্রথমত হলো প্রাচীন যুগ (৫৭২ খ্রি: ৮৭০ খ্রি:)। এ যুগের যুক্তিবিদদের মধ্যে প্রধান হলেন- ১. পিথাগোরাস, ২. সক্রেটিস, ৩. প্লেটো, ৪. এরিস্টটল। ভারতীয় দর্শনেও গৌতম প্রণীত ন্যায় সূত্রের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার চর্চা ছিল। চীন দেশে কনফুসিয়াসের সমসাময়িক চিন্তাবিদ মোজি বৈধ অনুমান বা যুক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা অবদান রেখেছে। দ্বিতীয়ত হলো মধ্যযুগ (৮৭০ খ্রি:-১৬৪৬ খ্রি:)। মধ্যযুগীয় যুক্তিবিদ্যা বলতে প্রধানত স্কলাস্টিক যুক্তিতত্ত্বকে নির্দেশ করে। দার্শনিক পরফিরিও মধ্যযুগের যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। এ যুগের যুক্তিবিদদের মধ্যে-১. আল- ফারাবি; ২. ইমাম গাজজালী, ৩. ইবনে সিনা, ৪. ইবনে রুশদ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। তৃতীয়ত হলো আধুনিক যুগ (১৪৪৬ খ্রি:-১৮৩১ খ্রিঃ)। এ যুগের যুক্তিবিদগণ হলেন স্পিনোজা, লাইবনিজ ও হেগেল। চতুর্থত হলো সাম্প্রতিক যুগ (১৮৩১ খ্রি:-চলমান)। এ যুগের যুক্তিবিদগণ হলেন- জেমস মিল, জর্জ বুল, ডি মরগ্যান, জে এস মিল, জেভন্স প্রমুখ। পূর্ববর্তী সকল যুক্তিবিদদের পথ অনুসরণ করেছেন দার্শনিক ফ্রাঙ্কলিন, ফ্রেগে, ভিটগেনস্টাইন, হোয়াইটহেড, কপি, যোসেফ প্রমুখ। পরবর্তীতে হিলবার্ট, লোভেন হেইম, স্কোলেম, গোডেল টাস্কি যুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদান রেখেছেন।