1 Answers
উদ্দীপকে ব্যাহতার্থক পদের দৃষ্টান্ত সুনয়নার চরিত্রের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা জানি, যে পদ দ্বারা এমন একটি গুণের নির্দেশ করা হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে উপস্থিতি থাকার কথা কিন্তু অনুপস্থিত তবে ভবিষ্যতে সে গুণটি আবার আবির্ভাব ঘটতে পারে সে পদকে ব্যাহতার্থক পদ বলে। যেমন- উদ্দীপকে সুনয়নার 'অন্ধত্ব' বৈশিষ্ট্য। এখানে 'অন্ধ' পদটি দ্বারা ব্যাহতার্থক পদের তাৎপর্য বা গুরুত্ব প্রতীয়মান হয়েছে। মূলত ব্যাহতার্থক পদের দ্বারা আমরা নেতিবাচক বা নঞর্থক পদের ধারণা সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে থাকি। কারণ, অন্ধ, বোবা, খোঁড়া শব্দগুলো দ্বারা সবসময় নঞর্থক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। তবে নঞর্থক পদের সাথে ব্যাহতার্থক পদের পার্থক্য হলো এটা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুতে বর্তমানে কোনো গুণের অভাব বোঝালেও ভবিষ্যতে স্বাভাবিক হওয়ার প্রবণতা বিদ্যমান। যেমন- উদ্দীপকে সুনয়না বর্তমানে অন্ধ হলেও ভবিষ্যতে যথার্থ চিকিৎসার মাধ্যমে সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারে।
ব্যাহতার্থক পদ মূলত এক প্রকার অ-ভাববাচক পদ। তবে অ- ভাববাচক পদের সাথে পার্থক্য হলো, এটা কোনো বস্তুতে কোনো গুণের বর্তমান অভাব নির্দেশ করে কিন্তু ইঙ্গিত করে যে ঐ গুণ ঐ বস্তুতে থাকাই স্বাভাবিক। যেমন- 'অন্ধ' পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তির বর্তমান অভাব বোঝায়। কিন্তু এ পদটিতে এ ইঙ্গিত আছে যে, মানুষের পক্ষে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন হওয়াই স্বাভাবিক।