1 Answers

উদ্দীপকে নন্দনতত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মূল্যবিদ্যার যে শাখা সুন্দর-অসুন্দরের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করে তাকে বলা হয় নন্দনতত্ত্ব বা সৌন্দর্যবিদ্যা। পৃথিবীতে মানুষের জীবনে বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতির সূত্রে সভ্যতার অগ্রগতি যেমন হয়েছে সেই সাথে শিল্পচর্চাও অবিরল ধারায় বহমান রয়েছে। এ প্রেক্ষিতেই নন্দনতত্ত্ব বিষয়টি আজকের দিনে অতি প্রাসঙ্গিক। মানুষের দার্শনিক অনুসন্ধিৎসার অন্যতম ক্ষেত্র তার জগৎ সম্পর্কে মূল্যবিচারের বোধ। মূল্যতত্ত্বের অংশ হিসেবে নন্দনতত্ত্ব জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে ও সার্বিক প্রেক্ষিতে মানব সভ্যতার জন্য কল্যাণকামী দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচারের লক্ষ্য এর যথার্থ তাৎপর্য অনুধাবন করা প্রয়োজন। এ হলো প্রধানত শিল্প বিষয়ক অনুধাবন, যা মানুষে মানুষে যোগাযোগ সম্পন্ন করে; যেভাবে সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে শিল্পের নন্দন মানব অনুধাবনকে প্রতিফলিত করেছে। বিশ্বকে বুঝতে গিয়ে শিল্প, শিল্পী, নন্দনতত্ত্ব কোনো সম্পর্কের বাঁধনে উঠে আসে। নান্দনিক জ্ঞান এক বৈজ্ঞানিক সংশ্রয়ের (আশ্রয়ে) আকারে শৈল্পিক অনুধ্যান সৃষ্টিকে ভূমিকা রাখে। এসব সূত্রে শিল্প এক সামাজিক সত্তার অধিকারী হয়। সামাজিক প্রপঞ্চ হবার সুবাদে শিল্পকে নির্দিষ্ট সামাজিক দায়ও পালন করতে হয়। কি করে এ শিল্প সৃজিত হয়। এর রহস্য নিহিত আছে শৈল্পিক চিন্তনে; চিত্রকল্পে, উৎপ্রেক্ষা, কূটাভাস, অনুষঙ্গ তার এক একটা সহায়। এক কথায় শিল্পের পদ্ধতিই হলো আকৃতিময় চিন্তা, প্রতিমূর্তি যেন। এমন ভাষার বর্ণমালা হলো শিল্প। এসবের বর্ণিল সমাহার মিলে যার যার সংস্কৃতিতে সামাজিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। তাদের এ সত্তা সন্ধানে নিজস্ব শৈলী বড় অংশের নির্ধারক। এ সৃষ্টি তার স্রষ্টা ও দ্রষ্টা, ভোক্তা, দর্শক এর উভয় পক্ষের মনস্তত্ত্বের মুখাপেক্ষী; যিনি গড়েন ও যিনি উপলব্ধি করেন দুজনের মনের গহীনে ঘটে চলা ক্রিয়াই তা সম্ভম্ব করে।

4 views

Related Questions