1 Answers
উদ্দীপকে বর্ণিত রাকিব ও সাকিবের ধারণাটিতে শিক্ষার তাৎপর্য প্রতীয়মান- শিক্ষা ও জীবন সমার্থক। আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বলে, জন্মের সময় থেকে শিশুর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অভিজ্ঞতাময়। শিক্ষার শুরু মানব শিশুর জন্ম থেকেই আর শেষ তার মৃত্যুতে। তাই শিক্ষা জীবনব্যাপী অন্তহীন ও বিরামহীন একটি প্রক্রিয়া। ব্যাপক অর্থে শিক্ষার পরিধি বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়, তার বিস্তার জীবনের সর্বস্তরে প্রসারিত। সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষাকে গ্রহণ করলে 'সাক্ষর' ও 'নিরক্ষর' বলে মানুষকে দুটি শ্রেণিতে আমরা ভাগ করতে পারি। কিন্তু ব্যাপক অর্থে এ ধরনের কোনো ভেদ মানুষের মধ্যে নেই, কেননা অভিজ্ঞতা নেই এ ধরনের মানুষও নেই। অক্ষর জ্ঞান না থাকলেও শিক্ষিত হতে দোষ নেই। অভিজ্ঞতার অভিনবত্বই শিক্ষা। নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সঞ্চয় প্রতিনিয়তই আমাদের হচ্ছে। একেই 'শিক্ষা' বলে অভিহিত করা যায়।
যেহেতু অভিজ্ঞতাই শিক্ষা সেহেতু আমাদের আচরণের ওপর অভিজ্ঞতার প্রভাব এ শিক্ষার আর একটি বৈশিষ্ট্য। অভিজ্ঞতা যখন আমাদের আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বা পরিবর্তন ঘটায় তখনই অভিজ্ঞতা শিক্ষা-পদবাচ্য। শিক্ষা তথ্য আহরণেই সীমাবদ্ধ নয়। তাকে বাস্তব আচরণের প্রয়োগ করতে হয় এবং তখনই তথ্য সংগ্রহ বা অভিজ্ঞতা অর্থময় হয়। যে শিক্ষা জীবনের কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না, যে শিক্ষা বাস্তবধর্মী নয়, সেই শিক্ষা, শিক্ষা পদবাচ্যও নয়।