1 Answers
উক্ত শাস্ত্র বলতে উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যা শাস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এই শাস্ত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও কলাবিদ্যার প্রয়োগ উভয়ই বর্তমান। কেননা যুক্তিবিদ্যার আলোচনা নির্দিষ্ট কতগুলো বিধি অনুসরণ করে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়। তাই এর বিষয়বস্তু অন্যান্য বিজ্ঞানের মতোই শৃঙ্খলাপূর্ণ ও বিধিবদ্ধ। অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যাও তার আলোচ্য বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করার জন্য পদ্ধতিগত কতগুলো সার্বিক সূত্র বা নীতিমালা আবিষ্কার করে। অতএব বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যাও একটি বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যা এমন একটি বিজ্ঞান, যা চিন্তা ক্রিয়ার সাধারণ ও সার্বিক নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে, কলা বলতে যেমন ব্যবহারিক দক্ষতাকে নির্দেশ করে তেমনি কাজ নিষ্পন্ন করার কৌশল বা পদ্ধতিকেও নির্দেশ করে থাকে। কলাবিদ্যা হচ্ছে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিরূপিত প্রয়োগবিধির সমষ্টি আর যুক্তিবিদ্যাও সত্য উদ্ঘাটন ও ভ্রান্তি নিরসনের উদ্দেশ্যে আমাদের জ্ঞানকে সর্বদা বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। কাজেই এদিক থেকে যুক্তিবিদ্যাকে যথার্থই একটি কলাবিদ্যা হিসাবে বিবেচনা করা যায়। এককথায় বিজ্ঞান হিসাবে যুক্তিবিদ্যা যেমন নির্ভুল চিন্তার নীতিসমূহকে আবিষ্কার করে তেমনি কলাবিদ্যা হিসাবে সত্য উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে ঐ নীতিসমূহকে বাস্তব কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ভ্রান্তি নিরসনে আমাদের সক্ষম করে তোলে। কাজেই যুক্তিবিদ্যাকে একাধারে বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা উভয়রূপে অভহিত করাই যুক্তিযুক্ত।