1 Answers
উদ্দীপকের মাহমুদ নীতিবিদ্যার শিক্ষার কারণে দুধে পানি মেশানো থেকে বিরত থাকে। যুক্তিবিদ্যার সাথে নীতিবিদ্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। কেননা যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা উভয়ই আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান এবং উভয়ই দর্শনের দুটি প্রধান শাখা। যুক্তিবিদ্যা বিশেষ কতকগুলো নিয়মের বা আদর্শের সাহায্যে যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা, যথার্থতা- অযথার্থতা নির্ণয় করে থাকে। অন্যদিকে নীতিবিদ্যা ভালোত্ব-মন্দত্ব, ঔচিত্য-অনৌচিত্যের আদর্শে মানুষের আচরণের ন্যায়ত্ব-অন্যায়ত্ব বিচার করে থাকে। যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা উভয়েরই লক্ষ সত্য বা সত্যের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা। উভয়ই আমাদের সঠিক আচরণ করতে সহায়তা করে। উভয়ের মধ্যে বেশকিছু বিষয়ে বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। যুক্তিবিদ্যা চিন্তা প্রক্রিয়ার সর্বাপেক্ষা উন্নত রূপ হিসাবে 'অনুমান' বা যুক্তি নিয়ে আলোচনা করে। অর্থাৎ অনুমানকে কেন্দ্র করেই যুক্তিবিদ্যার বিশ্লেষণ আবর্তিত হয়। অন্যদিকে নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় হলো 'ভালোত্ব-মন্দত্ব', 'ন্যায়ত্ব-অন্যায়ত্ব' বা 'ঔচিত্য- অনৌচিত্য'। যুক্তিবিদ্যায় যৌক্তিক নিয়ম বা নীতি অনুসরণ করে যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ণয় করা যায়। কিন্তু নৈতিক আদর্শের মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয়ের ঠিক ও সর্বসম্মত সূত্র নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে নৈতিক আচরণের যৌক্তিকতা বা যেকোনো ধরনের নৈতিক মানদণ্ডের যথার্থতা বিচার করতে হলে তাকে যৌক্তিকভাবে বিচার করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ভালো বা গঠনমূলক যুক্তির আশ্রয়বাক্য নৈতিক নিয়ম নীতির ভিত্তিতে গড়ে উঠতে পারে।