1 Answers
উদ্দীপক দ্বারা কোচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কোচ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসরত উপজাতির অন্যতম। এরা 'রাজবংশী' নামেও পরিচিত। কোচ ভাষা তিবেতো- বর্মন ভাষা পরিবারের বোড়ো শাখার অন্তর্ভুক্ত এবং এর মধ্যে অসমীয়া, বাংলা, গারো প্রভৃতি ভাষার অনেক শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ ভাষার কোনো লিখিত বর্ণমালা নেই। ফলে বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই কোচরা বাংলা ভাষা ব্যবহার করেন। কেবল বয়স্ক কোচরা নিজেদের মধ্যে কথোপকথনের সময় 'কোচ ভাষা' ব্যবহার করেন। কোচরা সনাতন হিন্দু ধর্মের পূজার পাশাপাশি তাদের আদি ধর্মের কিছু কিছু দেব-দেবীর পূজাও উদযাপন করেন। যেমন- মনসা দেবীকে পারিবারিক দেবীরূপে মানার সাথে সাথে কোচরা সাপের ভয়ে এ দেবীর পূজা করেন। আবার পরিবারের কেউ যদি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তাহলে তারা রোগীর আরোগ্য কামনায় গৃহপ্রাঙ্গণে 'পিশাচ পূজা'র আয়োজন করেন। এছাড়া অনাবৃষ্টিকালে বৃষ্টি কামনায় কোচরা 'লঙ্কাচারিয়া পূজা করেন।
উদ্দীপকের অপু তার অধ্যাপক বাবার কাছ থেকে জানতে পারে যে, বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। ফলে তাদের শিশুরা বাংলা ভাষাতেই লেখাপড়া করে। এছাড়াও তাদের ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম হলো- 'মনসা পূজা', 'পিশাচ পূজা', 'লঙ্কাচারিয়া পূজা' ইত্যাদি। অপু তার বাবার কাছ থেকে যে বিষয়গুলো জানতে পেরেছে, তা পূর্বে বর্ণিত কোচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগত ও ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, উদ্দীপক দ্বারা কোচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।