1 Answers

উদ্দীপক দ্বারা খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বসবাসরত অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, গারো, রাখাইন ইত্যাদি) মতো খাসিয়াদেরও পোশাক-পরিচ্ছদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

খাসিয়া পুরুষরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন। এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে- স্পার (সুতির কাপড়, যা ধুতির মতো করে ব্যবহার করা হয়), জাইন্সম্পং (মাথার পাগড়ি), থাইন্ডপ (ছোট সাইজের কোমরবন্ধনী), জাইকূপ (গায়ের শাল) ইত্যাদি। আর মহিলারা জাইপিয়েন (বড় আকারের কোমরবন্ধনী), থাপ্পু (মাথার পাগড়ি), জইন্সেম (বড় আকারের এক খণ্ড কাপড়, যা সর্বাঙ্গ ঢাকার কাজে ব্যবহার হয়), জইনখর (সিল্কের তৈরি পোশাক), জাইনিথ (গামছার মতো কাপড়, যা দিয়ে মহিলারা পিঠে বাচ্চা বেঁধে রাখেন) ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন। খাসিয়ারা মাথায় যে পাগড়ি ব্যবহার করেন, তার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। যেমন- তরুণ বয়সীরা যে পাগড়ি ব্যবহার করেন তা সাধারণ সুতি কাপড়ের তৈরি। মাঝ বয়সীদের ব্যবহৃত পাগড়ি এন্ডি-মুগা কাপড়ের তৈরি। আর অভিজাত শ্রেণি, বিশেষ করে মন্ত্রীরা যে পাগড়ি ব্যবহার করেন তা রেশম কাপড় দ্বারা তৈরি করা হয়।

বহু যুগ ধরেই বাংলাদেশে বসবাসকারী খাসিয়াদের প্রধান পেশা পান চাষ। গভীর পার্বত্যাঞ্চলে বৃষ্টিবহুল এলাকায় অতি সহজে পান জন্মায় বলে তারা পান চাষকে জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পান চাষকে খাসিয়ারা 'পানজুম' বলেন। পানের পাশাপাশি খাসিয়ারা সুপারির চাষও করেন। পান-সুপারি চাষের জন্য খাসিয়ারা সরকারের কাছ থেকে বিস্তীর্ণ অরণ্যভূমি দীর্ঘমেয়াদে লীজ নেন। এ লীজ নেওয়ার ক্ষেত্রে 'মন্ত্রী' তাদেরকে সহযোগিতা করেন। যেহেতু সিলেটসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে খাসিয়াদের উৎপাদিত পানের বিশেষ চাহিদা রয়েছে, সেহেতু তাদের অর্থোপার্জনও বেশ সন্তোষজনক। পান চাষের বাইরে অন্য পেশায় খাসিয়াদেরকে খুব কমই দেখা যায়। এমনকি গরিব খাসিয়ারা পর্যন্ত চা শ্রমিক হিসেবে চা বাগানের কাজে যোগ দিতে পছন্দ করেন না, বরং একে তারা অবমাননাকর মনে করেন। অবশ্য সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট এবং সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানায় বসবাসকারী কিছুসংখ্যক খাসিয়াকে চাষাবাদের মাধ্যমেও জীবিকা নির্বাহ করতে দেখা যায়। আবার কিছুসংখ্যক শিক্ষিত খাসিয়া সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করেন। এদেশের খাসিয়া জনগণ ব্যবসায়- বাণিজ্যে এ পর্যন্ত তেমন কোনো অবদান রাখতে পারেন নি কিংবা একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন নি।

উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, আধুনিক শিক্ষা ও ধ্যান ধারণার প্রসারের ফলে খাসিয়াদের পোশাক-পরিচ্ছদ এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসলেও এখনও তারা এসব ক্ষেত্রে মূলত তাদের ঐতিহ্যকেই অনুসরণ করেন।

4 views

Related Questions