1 Answers

উদ্দীপক দ্বারা কোচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ নৃগোষ্ঠীর সামাজিক কাঠামো একইসাথে ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। বাংলাদেশে বসবাসকারী কোচ সমাজ মোট সাতটি দলে বিভক্ত। দলগুলো হচ্ছে- ওয়ানাং, হরিগাইয়া, সাতপাড়ি, দশগাইয়া, চাপ্পা, তিনথেকিয়া ও শংকর। দলগুলোকে কোচরা 'ভাগ' নামে অভিহিত করে। এ দল বা ভাগের প্রতিটিরই একাধিক গোেত্র রয়েছে। গোত্রগুলোকে কোচরা 'নিকিনি' নামে আখ্যায়িত করে। এসব গোত্র বা নিকিনি'র মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কামা, রান্জ, পিড়া, মাজি, হানসুর, দাহেং, রাংসা, কাশ্যপ, দাম্বুক ইত্যাদি। কোচদের পরিবার একইসাথে মাতৃসূত্রীয় ও পিতৃতান্ত্রিক। এর মানে হচ্ছে, পরিবারের সন্তান-সন্ততিরা মায়ের পদবি গ্রহণ করে এবং সে অনুযায়ী পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু পরিবারে পিতাই প্রধান ব্যক্তি এবং সব সিদ্ধান্ত তিনিই গ্রহণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর পুত্র সন্তান সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে এবং এক্ষেত্রে তারা হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসরণ করে। কন্যা সন্তানরা পিতার সম্পত্তির কোনো ভাগ না পেলেও বিবাহের পর স্বামীর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং তার সম্পত্তির একটি অংশ লাভ করে।

কোচদের মধ্যে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে 'সামাজিক পরিষদ' নামক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিয়ে তারা তা মীমাংসা করে নেয়। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বলা হয় 'গাঁওবুড়া'। বিচার-সালিশ কাজে গাঁওবুড়াকে সাহায্য করার জন্য সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা মণ্ডলিও থাকে। সামাজিক পরিষদের সিদ্ধান্তই কোচ সমাজের কাছে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়। এ নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সাধারণত একক বিবাহরীতির প্রচলন থাকলেও সন্তান লাভের আশায় অনেকে একাধিক বিবাহ করেন। কোচ সমাজে বিধবা বিবাহের ব্যাপকতা না থাকলেও অল্পবয়সী বিধবারা পুনর্বিবাহ করতে পারে এবং এক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি বিদ্যমান। এ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে একাত্মবোধ অত্যন্ত গভীর, যে জন্য কোচ সমাজে কোনো অনাথ কিংবা এতিম ছেলেমেয়ে নেই। কারণ কোনো শিশু এতিম বা অনাথ হলে তাকে লালন-পালন করার দায়িত্ব গোত্রের যে কোনো পরিবারের এবং এক্ষেত্রে তারা স্বত:স্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গোত্রপ্রীতি ও নারী- পুরুষকে সমভাবে মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে কোচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা একটি অনন্য সাধারণ সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলেছেন।

5 views

Related Questions