1 Answers

উদ্দীপকের তিমিরকাঠি গ্রামের মানুষ সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সাঁওতালদের সমাজকাঠামো বৈচিত্র্যময়।

সাঁওতালরা জ্ঞাতিভিত্তিক সমাজের মানুষ। তাদের সমাজ সংগঠন খুবই দৃঢ় এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল। সাঁওতালরা ১২টি গোত্র বা টোটেমে বিভক্ত। এ গোত্রগুলোকে 'পারিস' বলা হয়। এসব গোত্রের মধ্যে রয়েছে- কিসকু, হাঁসদা, মুর্মু, হেমব্রম, সরেন, টুডু, বেসরা ইত্যাদি। সাঁওতালদের মধ্যে এখনও সামাজিক নেতৃত্ব প্রচলিত। গ্রাম পর্যায়ে নেতৃত্বে থাকে মাঝি, জগমাঝি, পারাণিক, নাইকে, কুড়াম নাইকে প্রমুখ। সাঁওতালরা তাদের সমাজে সংঘটিত যেকোনো অপরাধের বিচার স্ব-সমাজের প্রধানদের দ্বারাই সমাধান করার পক্ষপাতি। সাঁওতাল সমাজে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পিতার মাধ্যমেই সন্তানের পরিচিতি ও উত্তরাধিকারিত্ব নির্ণয় করা হয়। সাঁওতাল সমাজে পিতার সম্পত্তিতে পুত্রদের সমান অধিকার থাকে, কিন্তু কন্যাদের কোনো অধিকার নেই। সঙ্গত কারণে বিয়ের পর স্বামীর সম্পত্তির ওপর স্ত্রীকে নির্ভর করতে হয়। তবে সম্পত্তি বণ্টনের সময় পিতা কন্যাকে একটি করে গাভী প্রদান করে থাকে। কোনো পুত্রহীন ব্যক্তির সম্পত্তি তার সহোদর ভাইয়েরা পেয়ে থাকে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর সমাজকাঠামো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গঠিত সমাজব্যবস্থা।

5 views

Related Questions