1 Answers
উদ্দীপকে দ্বারা মহাস্থানগড় সভ্যতার ইঙ্গিত করা হয়েছে। মহাস্থানগড় বর্তমান বগুড়া জেলা শহর থেকে ৮ মাইল উত্তরে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত একটি কিংবদন্তি অনুযায়ী ক্ষত্রীয় রাজা পরশুরামকে পরাজিত করে শাহ সুলতান বলখি মাহি সরওয়ার (র) নামের একজন আউলিয়া মহাস্থানগড়ে ইসলামের বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, লোকমান প্রতিবছর বগুড়ায় অবস্থিত শাহ সুলতান বলখি মাহি সরওয়ার (র)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করেন। এই মাজার ও মহাস্থানগড়ের সভ্যতা একই অঞ্চলে অবস্থিত। আবার উদ্দীপকে মাহি সরওয়ার (র)-এর বিজয়ের যে কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে, তাও মহাস্থানগড় অঞ্চলে প্রচলিত কিংবদন্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। চীন দেশের পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর বর্ণনা এবং মৌর্য বংশীয় সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নাম ছিল 'পুণ্ড্রনগর' বা 'পুণ্ড্রবর্ধন'। এখানে অবস্থিত সভ্যতার উত্থান, সমৃদ্ধি ও পতনকাল হচ্ছে খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় ১৫শ শতাব্দী পর্যন্ত। মহাস্থানগড়ে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ছাড়াও হিন্দু সামন্ত রাজা বলরাম, পরশুরামের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। আর্যদের আগমনের আগে এখানে 'পুণ্ড' নামের আদিবাসীরা বাস করত। ইতিহাসবিদ ড. শ্রী রমেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, "পূণ্ড জাতির নামানুসারে পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর নামকরণ করা হয়েছে।"