1 Answers

আবিরের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। আর বগুড়া জেলায় আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হচ্ছে মহাস্থানগড়। সুতরাং উদ্দীপক দ্বারা ইঙ্গিতকৃত মন্দির দুটি হচ্ছে, 'খোদাই পাথর ভিটা' ও 'গোবিন্দ ভিটা'।

মহাস্থানগড়ের সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় মন্দির খোদাই পাথর ভিটার নির্মাণ কৌশল উদ্দীপকের আবিরকে মুগ্ধ করে। এটি একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। মন্দিরটির আয়তন ২৪ ফুট × ১৫ ফুট। খোদাই পাথর ভিটার মেঝেতে যে পাথর আবিষ্কৃত হয়েছে তার আয়তন ৯ ফুট ৪ ইঞ্চি × ২ ফুট ৫ ইঞ্চি × ২ ফুট ৪ ইঞ্চি। স্থানীয় হিন্দু ও মুসলমানরা এখনও নগ্ন পায়ে এ পাথরটিতে দুধ ঢেলে ভক্তি নিবেদন করেন। আয়তকার এ বৌদ্ধ মন্দিরটি ছিল পূর্বাভিমুখী। এর মেঝে ছিল পাথরে বাঁধানো। অনুমান করা হয় যে, মন্দিরটির দরজার চৌকাঠের বাজু ও উপর দিকের অলংকৃত অংশ পাথর দ্বারা নির্মিত ছিল।

উদ্দীপকের আবির খোদাই পাথর ভিটার পাশাপাশি মহাস্থানগড়ের অন্য যে মন্দিরের স্থাপত্য কৌশল দেখে মুগ্ধ হয় সেটি হচ্ছে, গোবিন্দ ভিটা। মহাস্থানগড় দুর্গ প্রাচীরের বহিরাংশের জাহাজঘাট থেকে ১৮৫ মিটার উত্তরপার্শ্বে গোবিন্দ ভিটা অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি 'বিষ্ণু মন্দির' নামেও পরিচিত। মন্দিরটির আয়তন ৭.৩ মিটার × ৫ মিটার। এর মধ্যে আবিষ্কৃত পাথরের আয়তন ৩ মিটার × ০.৭৫ মিটার × ২ ফুট ৫ ইঞ্চি। গোবিন্দ ভিটা মন্দিরে চারটি যুগের (গুপ্ত, পাল, সেন ও সুলতানি যুগ) স্থাপত্য কৌশল পরিলক্ষিত হয়। এ থেকে ধারণা করা যায় যে, মহাস্থানগড়ে বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটেছিল।

4 views

Related Questions