1 Answers
জার্মান সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মাকর্সের রৈখিক তত্ত্বের আলোকে বিভিন্ন সময়কার সামাজিক পরিবর্তনের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা হলো- উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের যে তত্ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে সেটি হলো মার্কসীয় তত্ত্ব। মার্কসের মতে, সমাজব্যবস্থা চারটি স্তর অতিক্রম করেছে। যার প্রতিটি স্তরই ছিল ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থার দ্বারা চিহ্নিত। প্রাচ্য বা এশীয় সমাজব্যবস্থাকে মার্কস সবচেয়ে প্রাচীন স্তর বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে সীমিত পরিসরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শ্রমবিভাগ লক্ষ করা যায়। সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না। উৎপাদন ছিল মূলত ভোগের জন্য। প্রাচ্য বা এশীয় সমাজব্যবস্থার ফলে উদ্ভব হয় প্রাচীন সমাজের। মানুষের মধ্যে পশু ও কিছু বিলাসজাত দ্রব্যের ব্যক্তিগত মালিকানার উদ্ভব ঘটে। এখানে ভূস্বামী ছিলেন জমির মালিক। কৃষকেরা ছিলেন উৎপাদনের উপকরণের মালিক আর যন্ত্রপাতির মালিক ছিলেন কারিগর শ্রেণি। কালক্রমে মুদ্রার প্রচলন, মজুরির বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক কলাকৌশল আবিষ্কার, নতুন বাজার সৃষ্টি ইত্যাদি কারণে সামন্ত সমাজব্যবস্থা ভেঙে পুঁজিবাদী সমাজের পত্তন হয়। এ সমাজব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলোর মালিকানা থাকে সমাজের অল্প কিছু মানুষের হাতে। সমাজের এসকল পুঁজিপতি কর্তৃক সর্বহারাদের ক্রমাগত নিপীড়নের ফলে একসময় তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠবে এবং পুঁজিবাদের সাথে সংঘাতে জড়াবে। এ সংঘাতে পুঁজিবাদের ধ্বংস হবে এবং সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সাম্যবাদে কোনো শ্রেণিসংঘাত থাকবে না। সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে আর প্রয়োজন অনুযায়ী ভোগ করবে।
পরিশেষে বলা যায়, কার্ল মার্কসের রৈখিক তত্ত্বে সমাজের বিভিন্ন স্তরে উপরের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয়।