1 Answers
অগাস্ট কোঁৎ-এর ত্রয়স্তর তত্ত্ব পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, রহমান সাহেবের ভূমিকা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ফল।
অগাস্ট কোঁৎ মানবসমাজের ইতিহাসের প্রগতির ধারাকে তিনটি স্তরের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। এ তিনটি স্তর হলো- ১. ধর্মতাত্ত্বিক স্তর, ২. অধিবিদ্যাগত স্তর এবং ৩. দৃষ্টবাদী স্তর। দৃষ্টবাদী স্তর সম্পর্কে কোঁৎ বলেন, মানুষ যখন ঐশ্বরিক, অতিপ্রাকৃত ও অলৌকিক শক্তির অস্তিত্বকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পায় তখনই দৃষ্টবাদী স্তরের আবির্ভাব ঘটে। এ স্তরে কল্পনার পরিবর্তে বস্তুনিষ্ঠ যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ সম্মিলিতভাবে জ্ঞানের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ স্তরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রযুক্তি প্রাধান্য পায় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পুঁজিপতি ও শিল্পপতিরা নেতৃত্ব দেবে বলে আশা করা হয়। কোঁৎ-এর মতানুযায়ী, সামাজিক উন্নতি তিনটি ক্রমিক ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। যথা- বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, আবেগিক বিকাশ ও বাস্তবিক বিকাশ। উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিমের প্রচণ্ড জ্বর হলে তার মা তাকে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। কবিরাজ ঝাড়ফুঁক ও তাবিজের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করেন। কিন্তু সেলিমের এতে কোনো উন্নতি হয় না। প্রতিবেশী শিক্ষিত রহমান সাহেব সেই খবর পেয়ে সেলিমকে গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলতে পারি, রহমান সাহেবের এই কাজ নিঃসন্দেহে তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ফল।