1 Answers
নাসিম বিটিভিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাভজনকভাবে ফসলের ক্ষেতে অর্থাৎ ধানক্ষেতে গলদা চিংড়ি চাষ সম্পর্কে জানতে পেরে সে অনুযায়ী চাষ করেন এবং তাকে দেখে এলাকার অন্যান্য চাষিরাও উদ্বুদ্ধ হন।
এলাকার অন্যান্য চাষিগণ নাসিমের দেখানো পথ অনুসরণ করে ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষ শুরু করেন। প্রথমে তারা চিংড়ি চাষের জন্য জমি ভ নির্বাচন, জমির আইল তৈরি বা মেরামত করেন, আইলের চারপাশে ভেতরের দিকে খাল এবং সুবিধাজনক স্থানে এক বা একাধিক ডোবা বা গর্ত নির্মাণ করেন। চিংড়ির জন্য জমি উপযুক্তকরণের পাশাপাশি ধান চাষের জন্যও প্রস্তুত করা হয়। তারা জমিতে সার প্রয়োগ করেন ও জমির মাটির ধরন অনুযায়ী ধানের জাত নির্বাচন করে চারা রোপণ করেন। পরে চিংড়ির পোনা মজুদ করেন ও প্রয়োজনমাফিক সার, খাদ্য, পানি সরবরাহের মাধ্যমে পোনা বড় করে তোলেন। কিন্তু পোনা মজুদের কিছুদিন পর চিংড়ির দেহে সাদা সাদা দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত হওয়ার কিছুদিন পর অধিকাংশ চিংড়ি মারাও যায়।
নাসিমের এলাকার চাষিরা যথাযথ পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা গ্রহণ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা পোনা মজুদের পূর্বে পোনা শোধন করেননি। পুকুরে রোগের আক্রমণ হলে জৈবসার প্রয়োগ বন্ধ, চুন ও সুষমখাদ্য প্রয়োগ ও পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু চাষিরা এ সকল কাজ করেননি। আবার সংক্রমণ হলে রোগাক্রান্ত চিংড়ি পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলতে হয় যাতে অন্যান্য সুস্থ চিংড়িকে ভাইরাস থেকে বাঁচানো যায়। কিন্তু তারা এ ব্যবস্থাও না নেয়ায় অধিকাংশ চিংড়ি মারা যায়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নাসিমের দেখাদেখি এলাকার অন্যান্য চাষিরা ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলেও তাদের রোগ ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কার্যক্রম সঠিক ছিল না।