1 Answers

রতন প্রামাণিকের কার্যক্রম ছিল সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এলাকার আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন সাধন।

কোনো এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য মোট ভূমির শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। আমাদের দেশে এর পরিমাণ মাত্র ১০ ভাগ। এ পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। কাঠ ও জ্বালানির ৮২- ৯০% আসে গ্রামীণ বন থেকে। এছাড়াও অন্যান্য শিল্পে রয়েছে বৃক্ষজাত কাঁচামালের ব্যবহার। এ সব চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন ও খাদ্য সংকট পূরণ করতে বনভূমির পরিমাণ খুব দ্রুত কমছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- খরা, অনাবৃষ্টি, ভূমিক্ষয়, গ্রিনহাউস ইত্যাদি বাড়ছে। এ ক্ষতি পূরণ করে আমাদের দেশকে আবারো শ্যামল সবুজ করতে হলে প্রয়োজন সামাজিক বনায়ন। বাংলাদেশ বন বিভাগ ব্যক্তিপর্যায়ে বৃক্ষরোপণ উৎসাহিত করতে চেষ্টা করছে।

একজন ব্যক্তির সচেতনতা ও প্রয়াস কীভাবে একটি গ্রামের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হলে রতন প্রমাণিক। নিজ চেষ্টায় রতনপুর গ্রামকে বৃক্ষশূন্য থেকে সবুজ শ্যামল করেছেন। গ্রামবাসীরা হয়ত সাথে সাথে এর উপকারিতা বুঝতে পারেনি কিন্তু পরবর্তীতে তার কৃত কাজের জন্য পেয়েছে স্বীকৃতি ও সম্মান। তার মতো যদি বাংলাদেশের আরও অনেক ব্যক্তি সামাজিক বনায়নে এগিয়ে আসে তবে বাংলাদেশ আবারও হয়ে উঠবে সুজলা-সুফলা।

সুতরাং, তার গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সাধনের প্রেক্ষাপটে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, রতন প্রামাণিকের সার্বিক কার্যক্রম যথার্থ।

4 views

Related Questions