1 Answers

আপনাকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট নড়াচড়া না করেই এক-জায়গায় স্থির হয়ে বসে অথবা শুয়ে থাকতে হতে পারে যখন এপিডিউরালটি শরীরে প্রবেশ করানো হবে। এছাড়া ওষুধ পুরোপুরি কাজ করা শুরু করতেও প্রায় ২০ মিনিটের মত লেগে যেতে পারে।

আপনার পায়ের অনুভূতি নাও থাকতে পারে এবং তাৎক্ষনিক অবস্থায় আপনি উঠে দাঁড়াতে নাও পারতে পারেন। কখনো আরলি লেবারের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ করার ওষুধ খুবই কম পরিমাণে দেয়া হয় যাতে করে আপনি পায়ে স্বাভাবিক শক্তি অনুভব করেন এবং কোন প্রকার বাঁধা অনুভব করা ছাড়াই পা নাড়াতে পারেন।

বেশীরভাগ সময়েই এই রকম পদ্ধতির ক্ষেত্রে নারকোটিক ওষুধের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি থাকে । তবে আপনি আপনার শরীরে একবার এপিডিউরাল পদ্ধতির জন্য ক্যাথেটার লাগিয়ে নেয়ার পর বেশীরভাগ ডাক্তাররাই আপনার উঠে হাঁটাচলা না করার পরামর্শ দিবেন।

আপনার শিরায় ক্যানোলা লাগাতে হতে পারে, ঘন ঘন রক্তচাপ মাপা হবে এবং গর্ভের বাচ্চার উপর নজর রাখা হবে।

কখনো এপিডিউরাল পদ্ধতি অবলম্বন করলে প্রসবের পরবর্তী ধাপগুলোতে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। কেননা, ওষুধের প্রভাবে শরীরের নিম্নাঙ্গে অবশীভাব এর জন্য নিচের দিকে পেশিগুলোতে তেমন একটা শক্তি পাওয়া যায় না এবং শিশুকে বের করার জন্য যে পরিমাণ ধাক্কার প্রয়োজন পরে, ওষুধের প্রভাবের কারণে মায়েরা সেই পরিমাণ শক্তি পান না। (সমসাময়িক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রসবের মধ্যে পুশ করার যে অংশ থাকে সেটা প্রায় ১৩ মিনিট বেশি দীর্ঘায়ত হতে পারে)

আপনি যখন পুশ অর্থাৎ শিশুকে ধাক্কা দেয়ার পর্যায়ে যাবেন তখন নিচের দিকের অংশের পেশিগুলোর শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য ওষুধের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে নিয়ে আসতে হতে পারে। এমন সময় ওষুধের প্রভাবও কমে যেতে পারে আর যার ফলে আপনি পূর্ণরূপে ব্যথা অনুভব করা শুরু করতে পারেন। তবে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে আনার মাধ্যমে প্রসবের সময়টা ত্বরান্বিত করা যায়, এই সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

এপিডিউরাল পদ্ধতি গ্রহণ করার মানে হল, আপনাকে হয়ত ভ্যাকুয়াম এক্সট্রাকশন বা ফোরসেপের মাধ্যমে প্রসব করতে হতে পারে। যার কারণে আপনার যৌনাঙ্গ কেটে যেতে পারে অথবা ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পরে যায়। এসব পদ্ধতিতে আপনার শিশুর শরীরের ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। (তবে আপনার শিশুর বড় কোন ক্ষতি হতে পারে এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ)

কোন কোন ক্ষেত্রে এপিডিউরাল পদ্ধতির মাধ্যমে শুধুমাত্র কিছু অংশের ব্যথা কমতে পারে। এমনটা হওয়ার কারণ হল, ক্যাথটার এর মাধ্যমে স্পাইনাল নার্ভের সবগুলো অংশে হয়ত ওষুধ পৌঁছাতে পারেনি, কেননা অনেকের শরীরের গঠন ভিন্ন রকমের হতে পারে।

ক্যাথেটারও তার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরে যেতে পারে, যার ফলে শুরুতে একদম সবকিছু ঠিক থাকলেও পরবর্তীতে ব্যথানাশক ওষুধ ঠিকমত কাজ নাও করতে পারে। (আপনি যদি শরীরের নিমাংশের কোন যায়গায় ব্যথা অনুভব করেন তাহলে আপনার ডাক্তারকে বলুন যাতে করে ক্যাথেটারটা ভালোভাবে পুনরায় বসিয়ে দেয়া হয়)

এই ধরনের ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে আপনার শরীরের রক্তচাপ কমে আসতে পারে যার ফলে গর্ভের শিশুর কাছে পর্যাপ্ত রক্ত নাও পৌঁছাতে পারে। এই কারণে আপনার শিশুর শরীরের হৃদ কম্পনও কমে আসতে পারে। (তবে এটা ফ্লুয়িড এবং অন্যান্য ওষুধের মাধ্যমে ঠিক করে ফেলা সম্ভব)

এপিডিউরিয়ালের মাধ্যমে যখন নারকোটিক ওষুধ দেয়া শুরু হবে তখন শরীরের কোন কোন অংশ চুলকানো শুরু হতে পারে, বিশেষ করে মুখমণ্ডলে চুলকানির প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া এপিডিউরাল পদ্ধতিতে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে বমি বমি ভাব চলে আসতে পারে। তবে প্রসবের সময় ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াও অনেক সময় নারীদের বমি করতে দেখা যায়।

এপিডিউরাল পদ্ধতিতে এনেসথেশিয়া ওষুধ গ্রহণের পর, আপনার যদি প্রস্রাবের বেগও আসে তবে সেটা আপনি নাও বুঝতে পারেন। আর তাই আপনার মুত্রথলিতেও আরেকটা ক্যাথেটার লাগিয়ে নিতে হবে যাতে করে মুত্রথলি খালি থাকে।

এপিডিউরাল পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রসবের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে এর কারণ এখন পর্যন্ত সঠিক ভাবে জানা যায় নি, যদিও কেউ কেউ মনে করেন যেহেতু ব্যথা থাকে না এবং ঘাম কম হয় তাই প্রসবের সময়ে তৈরি হওয়া উত্তাপ বের করতে না পারার কারণেও শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

তবে এটি আপনার এবং আপনার শিশুর শরীরে ইনফেকশন হওয়ার আশংকা বৃদ্ধি করে না। যেহেতু বোঝা যায় না যে আসলে জ্বর কি শরীরের ইনফেকশনের কারণে নাকি এপিডিউরাল পদ্ধতি অনুসরণের কারনে হয়েছে, তাই অযথা হয়ত আপনাকে বা আপানর শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হতে পারে।

এপিডিউরাল ব্যাবহার করা মায়েদের ক্ষেত্রে বাচ্চার পোস্টেরিয়র পজিশনে থাকার হার বেশি। যাদের বাচ্চা পোস্টেরিয়র পজিশনে থাকে তাদের প্রসবের সময় দীর্ঘ হয়, Pitocin এর প্রয়োজন বেশি পরতে পারে এবং সিজার করার হারও বেশি।

তবে এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই, আদতে কি এপিডিউরাল পদ্ধতি গ্রহণের কারণেই (যেহেতু পেলভিক এর অংশ বেশ শিথিল অবস্থায় থাকে) এমনটা হয়, নাকি শিশুরএই অবস্থানের জন্য শরীরে যে অতিরিক্ত ব্যথা হয় তার কারণেই নারীরা বেশি এপিডিউরাল পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন।

শতকরা এক শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে প্রসবের পর তাদের স্পাইনাল জনিত মাথা ব্যথা করতে পারে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেহেতু স্পাইনাল কর্ডের চারপাশের ফ্লুয়িডে সুঁই এর মাধ্যমে ক্যাথেটার প্রবেশ করানো হয়, তাই এই ফ্লুয়িড সেখান দিয়ে কিছুটা বের হয়েও আসতে পারে। আর তাই যদি সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় আপনার মাথা ব্যথা করে, এটা আবার শোয়ার সাথে সাথে চলে যায় তাহলে আপনার ডাক্তারকে অবহিত করুন।

এই ধরনের সমস্যাও এপিডিউরাল পদ্ধতিতে ঠিক করা হয়। আপনার হাত থেকে রক্ত নিয়ে সেটা এপিডিউরিয়ালের মাধ্যমে সেই অংশে প্রবেশ করানো হয় এবং সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে সেই অংশটি সিল অর্থাৎ ফুটোটি বন্ধ হয়ে যায়। আপনি যখন হাসপাতালে থাকেন, তখনই এই পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করা ভালো। তবে বাসা থেকেও আবার হাসপাতালে এসে আপনি এই চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন।

সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ না করা হলে এই ব্যথা একদিন থেকে সপ্তাহ খানেক পর্যন্ত হতে পারে এবং ব্যথার ধরনও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি কোন কোন নারীরা চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করার পরেও মাথা ব্যথায় ভুগেছেন অলে জানা গিয়েছে।

যদি সম্ভাবনা খুবই কম, তবুও এপিডিউরিয়ালের কারণে আপনার শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যাও দেখা যেতে পারে।

যদিও এমনটাও খুবই খুবই কম এবং নেহায়েত দেখা যায় না বললেই চলে, তবুও এপিডিউরাল পদ্ধতির কারণে নার্ভ ইনফেকশন এবং নার্ভে ক্ষত হতে পারে।

1939 views

Related Questions