1 Answers
পৃথিবীর সকল দেশের সকল মানুষ শান্তি চায়। ঈশ্বরও সকল মানুষকে শান্তি দিতে চান। সেজন্যেই তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে এজগতে প্রেরণ করেছেন। তিনি মানব হয়ে জন্মগ্রহণ করার বহু পূর্বে প্রবক্তা ইসাইয়ার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর বলেছিলেন, “অন্ধকারে পথ চলছিল যারা, সেই জাতির মানুষেরা দেখেছে এক মহান আলোক; ছায়াচ্ছন্ন দেশে যারা বাস করুনছিল, তাদের উপর ফুটে উঠেছে একটি আলো।
হে ঈশ্বর, তুমি তাদের দিয়েছ অসীম আনন্দ, কত গভীর তাদের উল্লাস। তোমার সঙ্গসুখে তারা আনন্দিত, মানুষ যেমন আনন্দিত হয় কাটার সময়ে, মানুষ যেমন উল্লসিত হয় লুণ্ঠিত সম্পদ ভাগ করার সময়ে। কেননা যে জোয়ালের ভার তাদের উপর চেপে বসেছিল, যে-বাঁক তাদের কাঁধের উপর দুর্বহ হয়ে উঠেছিল এবং তাদের নির্যাতকের সেই যে-বেতখানি, সবই তুমি ভেঙ্গে ফেলেছ, যেমনটি ভেঙ্গেছিলে মিদিয়ানের সেই পরাজয়ের দিনে।
সৈন্যদের মাটি-কাঁপানো যত রণপাদুকা, রক্তমাখা যত পোশাক, সবই এবার পুড়িয়ে দেওয়া হবে, সবই আগুনের গ্রাসে ছাই হয়ে যাবে। কেননা আমাদের জন্যে একটি শিশু যে জন্ম নিয়েছেন, একটি পুত্রকে আমাদের হাতে যে তুলেই দেওয়া হয়েছে। তাঁর কাঁধের উপর রাখা হয়েছে সব কিছুর আধিপত্যভার। তাঁকে ডাকা হবে অনন্য পরিকল্পক, পরাক্রমী ঈশ্বর, শাশ্বত পিতা, শান্তিরাজ, এমনি সব নামে। আহা!এবার শুরু হবে দাউদের সেই সিংহাসনের, সেই রাজত্বের সুবিস্তৃত আধিপত্যের যুগ, অনন্ত শান্তির যুগ”
উপরের এই শাস্ত্রপাঠ থেকে আমরা দেখতে পাই-পাপ দ্বারা মানুষ ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। মানুষ ঈশ্বরের পাওনা ঈশ্বরকে দিতে ব্যর্থ হয়েছে, অর্থাৎ ঈশ্বরের বাধ্য থাকতে ও তাঁকে ভালোবাসতে মানুষ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ঈশ্বর ন্যায়বান। মানুষের কষ্টের বোঝা এবার তিনি লাঘব করার জন্য দয়া দেখালেন।
আমরা উপরে দেখেছি, ন্যায্যতার হলো শান্তি। কারণ আমরা জানি, যার যেটি পাওনা তাকে তা দিয়ে দেওয়ার অর্থই ন্যায্যতা। আমরা আরও দেখেছি ঈশ্বরের পাওনা ঈশরকে দিলে এবং মানুষের পাওনা মানুষকে দিলে ন্যায্যতা হয়। এভাবে ঈশ্বর ও মানুষের সাথে আমাদের ন্যায্যতার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। ফলে সৃষ্টি হয় শান্তি। এখন কারও বিরুদ্ধে আর কারও কিছু বলার নেই। সবাই সুখী।
শাস্ত্রপাঠটিতে আমরা আরও দেখেছি, ঈশ্বর মানুষের সাথে সম্পর্ক সুন্দর করার জন্য নিজেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি নিজেই তাঁর পুত্রকে পাঠিয়েছেন। পুত্র ঈশ্বর আমাদেরকে পাপের ছায়া থেকে উদ্ধার করার জন্য ক্রুশের উপর প্রাণ দিয়েছেন। এভাবে তিনি ঈশ্বর ও আমাদের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপন করেছেন। এখন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে আর দূরত্ব নেই। আমাদের এখন সর্বদা চেষ্টা করে চলতে হবে যেন ঈশ্বরের সাথে আমাদের এই সম্পর্ক নষ্ট না হয়। আমরা যেন আমাদের পাপ দ্বারা ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে না যাই।
আরও একটা দিকে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে, মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে। আমরা যখন প্রত্যেক মানুষকে তাদের পাওনা মিটিয়ে দেই তখনই মানুষের সাথে আমদের ন্যায্যতার সম্পর্ক বিরাজ করে। এই ন্যায্যতার ফলে বিরাজ করে শান্তি।
Reference : class 8 বৌদ্ধধর্ম পাঠ্যবইয়ের নবম অধ্যায়