আমার ইদানিং পড়াশোনা হচ্ছে না সে ক্ষেত্রে পড়াশোনায় আগ্রহী হওয়ার জন্য আমি কি করতে পারি শুধু ঘরে বসে আলসামি হয় আর শুয়ে থাকা। 

2731 views

2 Answers

পড়াশুনা করার ক্ষেত্রে সবার আগে যেটার প্রয়োজন proper planning. planning ছাড়া পড়াশুনা করতে গেলে পড়াশুনাতে মন বসবে না। 
নিচের পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করতে পারেন।

১। পোমোডোরো টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন। এই টেকনিকে ২৫ মিনিট পড়াশুনা-৫ মিনিট রেষ্ট-আবার ২৫ মিনিট পড়াশুনা-৫ মিনিট রেস্ট এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এটা বেশ কার্যকরী একটি নিয়ম পড়াশুনায় মনোযোগ ধরে রাখার জন্য। প্রতি ২ ঘন্টায় একটি ৩০ মিনিটের লম্বা বিরতি নিতে হয়। এভাবে পড়াশুনা করার পদ্ধতি বেশ কার্যকর হতে পারে।

২। যেদিন পড়াশুনা করতে ইচ্ছা করবে না সেদিন ভাববেন যে ৫ মিনিট অন্তত পড়বেন। শুধু  শুরু করা ই আসল। শুরু করলে আস্তে আস্তে পড়াশুনা কতরে ভালো ও লাগবে।

৩। যখন পড়তে ইচ্ছা করবে না তখন আপনার যে সাবজেক্ট বা যে বিষয় পড়তে ভালো লাগে না সে বিষয় পড়বেন না। যে বিষয় পড়তে আপনার ভালো লাগে সেটা ই পড়বেন।

৪। একা একা না পড়ে গ্রুপ স্টাডি করার চেষ্টা করুন। আড্ডা দিতে দিতে ই অনেক খানি পড়া হয়ে যাবে।

৫। কোনদিন ঠিক কতটুকু পড়বেন সেটার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। তবে লক্ষ্য অবশ্যই বাস্তব সম্মত হতে হবে।

৬। ফোন, ল্যাপটপ সমস্ত রকমের ইলেক্ট্রিক যন্ত্র থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে সামাজিক মাধ্যম গুলো থেকে আইডি ডিএক্টিভেট করে রাখতে পারেন।
ধন্যবাদ।

2731 views

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া জীবনে উন্নতি করা যায় না। একজন ছাত্রের একমাত্র দায়িত্ব হলো অধ্যয়ন করা বা পড়াশুনা করা। তাই প্রত্যেক ছাত্রকে মনযোগসহ পড়তে হবে। পড়াশুনার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করতে হবে-
১. লক্ষ্য স্থির করা: জীবনের লক্ষ্য করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দাঁড়বিহীন নৌকা যেমন একটা নির্দিষ্ট স্থানে কোন দিন পৌঁছাতে পারে না, তেমনি লক্ষ্যহীন মানুষ সফলতা পায় না। তাই, লক্ষ্য নির্বাচন করতে হবে। সেই অনুযায়ি নিজেকে গড়তে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনের প্রবল ইচ্ছাই পড়ার প্রতি মনোযোগীতা বাড়িয়ে দিবে।
২. মনযোগ নষ্টকারক বস্তু থেকে বিরত থাকা: ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন জিনিস মনযোগ নষ্ট করে। তাই পড়তে বসলে যে জিনিসটা আপনার মনোযোগ নষ্ট করে, সেটা সরিয়ে রাখুন। পড়ার জায়গা থেকে সেটা দূরে রাখুন।
৩. নিজেকে পুরষ্কৃত করা: প্রতিদিনের পড়া পরিপূর্ণ করার জন্য একটা সময় এবং কতটুকু পড়বেন বা কতটুকু পড়া উচিত তা নির্ধারণ করুন। এই সময়ে ওই পড়া পরিপূর্ণ হলে নিজেকে পুরষ্কৃত করুন। চকলেট বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গেম খেলা ইত্যাদি পুরষ্কার হিসেবে রাখতে পারেন। এতে পড়ার আগ্রহ বাড়ে।
৪. বিরতি দেওয়া: একটানা কোন কাজই হয় না। বিরতির প্রয়োজন আছে। তাই বিরতি দিয়ে পড়ুন। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ মিনিট পড়ে ৫ মিনিট বিরতি দিলে আবার ২৫ মিনিট পড়ে ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে পড়লে অনেক সময় ধরে পড়া যায় এবং পড়া ও মনে থাকে।
৫. পড়ার পরিবেশ মনোরম করা: সু্ন্দর দেহে যেমন সুন্দর মন থাকে, তেমনি সুন্দর পরিবেশে পড়লে পড়াশুনায় মন বসে। তাই আপনার পড়ার পরিবেশ সুন্দর হতে হবে। এতে পড়ার ইচ্ছা নষ্ট হয় না।
৬. পর্যাপ্ত ঘুমান: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। মন ভাল থাকলে, সবই ভাল। তাই, সময়মতো ঘুমাতে হবে এবং মন সতেজ রাখতে হবে। এতে পড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়ে।
বিবিধ: নিয়মিত নামাজ পড়ুন। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। জ্ঞান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন। দোয়া:
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ- রাব্বি যিদনি ইলমা
অর্থ- হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।

পরিশেষে,  ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ওস্তাদ ইমাম ওয়াক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহির নিকট আরজ করলেন, `আমার স্মরণশক্তি কম।` জাওয়াবে ওস্তাদ বললেন, আপনি গুনাহ করা ছেড়ে দিন। কারণ, ইলম হচ্ছে নূর, গুনাহগারের অন্তরে তা দেয়া হয় না। অথচ ইমাম শাফিয়ী ৩০ দিনে পবিত্র কুরআন মাজিদ হিফয করেছিলেন। 

2731 views

Related Questions