5 Answers
মানুষ সম্মানী জাতী, মানুষের মন্দ কাজে বিরক্ত হলে তার জন্য হেদায়াতের দোয়া করবেন, কারো মৃত্যু চাওয়া ঠিক নয়।
মুসলিম হিসেবে অবশ৽ই গোনাহ্ হবে | আপনি অন৽ কারও মৃত৽ু কেনো আশা করবেন ! এটি ঠিক নয় | আল্লাহ অখুশি হবেন
হ্যাঁ, যে ব্যাক্তি অন্যের জন্য গর্ত করে এই গর্তে সেই পরবে। আপনি যদি অন্য কাররো জন্য বদদোয়া করেন সেই দোয়া আপনার উপর পরতে পারে। নবী ( স.) কে তায়েফ বাসী নির্মম ভাবে মারার পরের তিনি অভিশাপ দেননি তাই আমরা তাঁর উম্মত হয়ে কিভাবে মানুষকে অভিশাপ দিব। এটা নিশ্চই মন্দ কাজ।
আল্লাহর কাছে অন্য কারো মৃত্যু চাওয়া গুনাহের কাজ। কোনো কারণেই কোনো অবস্থাতেই মৃত্যু কামনা করা বৈধ নয়। বরং তিনি যদি কোন অসুস্থতার মধ্যে থাকে তার জন্য মুক্তির দোয়া করতে হবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন কোনো রুগ্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, যার এখনো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়নি এবং তার নিকট সাতবার এই দোয়াটি বলবে। উচ্চারণঃ আসআলুল্লাহাল আজিম, রাব্বাল আরশিল আজিম, আঁইয়্যাশফিয়াক। অর্থাৎ আমি সুমহান আল্লাহ, মহা আরশের প্রভুর নিকট তোমার আরোগ্য (সুস্থতা) প্রার্থনা করছি আল্লাহ তাকে সে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) একজন বেদুঈনকে দেখতে গেলেন। আর তার নিয়ম এই ছিল যে, যখন তিনি কোনো রোগীকে দেখতে যেতেন তখন বলতেন। লা-বাসা তুহু-রুন ইনশাআল্লাহ। অর্থঃ ভয় নেই, আল্লাহর মেহেরবানীতে আরোগ্য লাভ করবে ইনশাআল্লাহ। কেন হিংসা বিদ্বেষের কারনে অন্যের মৃত্যু কামনা করবেন? হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন, তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করো না, হিংসা করো না, ষড়যন্ত্র করো না ও সম্পর্ক ছিন্ন করো না। তোমরা পরস্পরে আল্লাহর বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও। অত্র হাদীসে মানবতাকে হত্যাকারী কয়েকটি দুরারোগ্য ব্যাধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইসলামী সমাজকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এখানে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হলেও তা মূলতঃ একটি থেকে উৎসারিত। আর তা হল হিংসা। এই মূল বিষবৃক্ষ থেকেই বাকীগুলি কাঁটাযুক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক ডাল-পালার ন্যায় বেরিয়ে আসে। হিংসা হচ্ছে আল্লাহ অন্যকে যে নেয়ামত দান করেছেন তাকে হিংসা করা এবং উক্ত নেয়ামতের ধ্বংস কামনা করা। আর হিংসুক হল, হিংসাকৃত ব্যক্তির নেয়ামত ধ্বংসের আকাংখী। হিংসার পিছে পিছে আসে বিদ্বেষ। সে তখন সর্বদা ঐ ব্যক্তির মন্দ কামনা করে। ইসলামে এর বৈধতা নেই।
হ্যা!নিশ্চয় অন্য কারো জন্য বা নিজের জন্য মৃত্যু কামনা করা গোনাহের কাজ!
হাদিস শরীফে আছে,দোয়া কবুল না হওয়ার কয়েকটি কারণের মধ্যে একটি কারণ হলো,কারো ওপর বিপদ পতিত হওয়ার দরূণ মৃত্যুকামনা করা-
খাব্বাব(রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছেঃযদি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ না করতেন,৷ আমি মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করতাম।”(বুখারী-৬৩৫০, মুসলিম-২৬৮১)
অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যেঃ
“তোমাদের কেউ যেন তার ওপর বিপদ আসার কারণে মৃত্যু কামনা না করে। যদি সে একান্তই তা করতে চায় তবে যেনবলে: ‘ও আল্লাহ্! আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখুন যতক্ষণপর্যন্ত বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর এবং আমাকে মৃত্যুদান করুন যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর’।”(বুখারী-৬৫৩১, মুসলিম-২৬৮০)
আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে,এই হাদিস থেকে নিজের বিরুদ্ধে বা অন্য কারো বিরুদ্ধে অমঙ্গলের দোয়া করা গোনাহের কাজ -কারো পরিবার এবং সম্পদের বিরুদ্ধে দু’আ করা- হাদীসে বর্ণিত আছে যেঃ“নিজেদের বিরুদ্ধে দু’আ করো না, তোমাদের সন্তানাদির বিরুদ্ধেদু’আ করো না, এবং তোমাদের সম্পদের বিরুদ্ধে দু’আ করো না; কেননা এই আশঙ্কা হতে পারে যে এটা এমন এক সময়ের সাথে মিলে যেতে পারে যখন আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাওয়া হয় আর তিনি তা কবুল করে নেন।”(মুসলিমঃ৩০০৯)