নামায পড়ার সময় কোন দিকে মনোযোগ দিব?
2 Answers
নামাজ আদায়ের সময় এদিকে-সেদিকে তাকানো নিষেধ।এজন্য নিয়ম হলো শান্ত ভাবে দাড়িয়ে সেজদার স্থানে দৃষ্টি রেখে নামাজ আদায় করা। বিন্দু বলতে আপনি নামাযে ভক্তি সহকারে দাঁড়িয়ে সূরা পাঠ করার সময় সেজদার স্থানে দৃষ্টি রেখে দাঁড়াবেন। এদিকে-সেদিকে তাকাবেন না এবং অযথা নড়াচড়া করবেন না।
নামাজ পড়ার সময় মনোযোগ কেমন হওয়া উচিত তা হলোঃ নামাজে একাগ্রতা, মনোযোগ, গভীর মনোনিবেশ ও ঐকান্তিকতা তৈরির কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো। সে অনুযায়ী, অনুশীলন করলে আশা করা যায়, নামাজে অমনোযোগিতা আর থাকবে না। এই নামাজ জীবনের শেষ নামাজ মনে করাঃ নামাজে দাঁড়ানোর সময় আপনি যদি চিন্তা করেন, এটিই আমার শেষ নামাজ। আর কখনো আমি আল্লাহর সামনে নামাজের জন্য দাঁড়ানোর সুযোগ পাবো না। কখনো আল্লাহর কাছে গুনাহের ক্ষমা চাইতে পারবো না। তাহলে এই নামাজ খুবই প্রাণবন্ত হবে। হৃদয় দিয়ে নামাজের স্বাদ অনুভব করা যাবে। প্রতিটি আমল ধীরস্থিরভাবে আদায় করাঃ নামাজের সবগুলো আমল ধীরে- সুস্থে ও স্থিরতার সঙ্গে আদায় করলে, নামাজের মনোযোগ স্থির থাকে। একাগ্রতার সঙ্গে রুকু, আত্মসমর্পিত হয়ে সিজদা, দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসা ইত্যাদি নামাজের প্রাণ সৃষ্টি করে। তাই যতদূর সম্ভব ধীরে-সুস্থে ও শান্ত-শিষ্টভাবে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন। দেখবেন, নামাজে মনোযোগ বাড়ছে। প্রতিটি আমলে সতর্কতা অবলম্বন করাঃ নামাজ শুরু করলে পরিপূর্ণভাবে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি আমল গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা উচিত, কোনটি কী কারণে এবং কোন উদ্দেশ্যে মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর সম্মুখে আপনি দাঁড়িয়েছেন। সম্ভব হলে নামাজের মধ্যে এমন পূর্ণাঙ্গ অনুভব ও ধ্যান রাখুন, আপনি যেনো মহান আল্লাহকে দেখছেন, তার সামনে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ রূপ চিন্তা বা অনুভব করতে না পারলে অন্তত এতটুকু ভাবুন যে, তিনি আপনার প্রতিটি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। তার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। অর্থাৎ নামাজে দন্ডায়মান অবস্থায় মনোযোগ ছুটে যেতে চাইলে কল্পনা করুন যে আপনি পুল সিরাতের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার নীচে জাহান্নামের গনগনে আগুন, সামনে জান্নাত আর উপরে মহান আল্লাহ আপনাকে দেখছেন। কল্পনা করুন আপনার পিছনে মৃত্যুদূত হযরত আযরাইল (আঃ) দাঁড়িয়ে আছেন আপনার জান কবয করার জন্য। এ অবস্থায় কি মনোযোগ ছুটে যাওয়া সম্ভব? নামায পড়ার সময় দৃষ্টি কোথায় রাখতে হবে তা হলোঃ নামাজে এদিক-সেদিক না তাকানো। কেননা এটি নামাজে মনোযোগ ও একাগ্রতা রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার। হাদীস এসেছে, আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছি যে, নামাজে এদিক সেদিক তাকানোর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাবে তিনি বলেছেন, এটা হলো শয়তানের ছোঁ মারা, যা দ্বারা শয়তান আল্লাহর বান্দাদেরকে নামাজ থেকে গাফেল ও উদাসীন করে ফেলে। (সহিহ বোখারিঃ ৭১৮) তা নামাজে এদিক-সেদিক না তাকানোর পদ্ধতি কী হবে–এ বিষয়ে মুজতাহিদ ইমামগণ একাধিক রায় পেশ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বলেছেন, নামাজের সময় দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার দিকে থাকবে, রুকু অবস্থায় থাকবে দুই পায়ের মাঝখানে, বসা অবস্থায় থাকবে কোলের দিকে, সিজদা অবস্থায় থাকবে নাকের দিকে। (কিতাবুল মাবসূতঃ ১/২৮)