1 Answers
এটা একটি ইখতিলাফী অর্থাৎ মতবিরোধপূর্ণ মাস্আলা। কেউ কেউ বলেছেন, বিতরসহ তারাবীহ ৪১ রাক‘আত। অর্থাৎ বিতর ৩ রাকআত হলে তারাবীহ হবে ৩৮ রাক‘আত। অথবা বিতর ১ রাকআত ও তারাবীহ ৪০ রাকআত। এভাবে তারাবীহ ও বিতর মিলে:
কেউ বলেছেন ৩৯ রাকআত (তারাবীহ ৩৬ + বিতর ৩)
কেউ বলেছেন ২৯ রাকআত (তারাবীহ ২৬ + বিতর ৩)
কেউ বলেছেন ২৩ রাকআত (তারাবীহ ২০ + বিতর ৩)
কেউ বলেছেন ১৯ রাকআত (তারাবীহ ১৬ + বিতর ৩)
কেউ বলেছেন ১৩ রাকআত (তারাবীহ ১১ + বিতর ৩)
কেউ বলেছেন ১১ রাকআত (তারাবীহ ৮ + বিতর ৩)
২০ রাক‘আত তারাবীহ সালাতের পক্ষে দলীল
(ক) বিতর ছাড়া ২০ রাক‘আত তারাবীহ সালাতের পক্ষে দলীল হল মুসান্নাফে আঃ রায্যাক হতে বর্ণিত ৭৭৩০ নং হাদীস, যেখানে বর্ণিত হয়েছে :
أَنَّ عُمَرَ جَمَعَ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ عَلَى أُبَي بنِ كَعَبٍ وَعَلَى تَمِيْمِ الدَّارِيْ عَلَى إِحْدى وَعِشْرِيْنَ مِنْ رَكْعَةِ يَقْرَؤُنَ بِالْمَئِيين
উমার (রাযি.) রমযানে উবাই ইবনে কাব ও তামীম আদদারীকে ইমামতিতে লোকদেরকে একুশ রাকআত সালাতের প্রতি জামাআতবদ্ধ করেছিলেন। (অর্থাৎ তারাবীহ ২০ ও বিতর ১ রাকআত)
(খ) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন যে,
كَانَتْ صَلاَةُ النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- ثَلاَثَ عَشَرَةَ رَكْعَةً يَعْنِيْ مِنَ اللَّيْلِ
‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র রাতের সালাত ছিল ১৩ রাক‘আত।’’ (বুখারী : ১১৩৮; মুসলিম : ৭৬৪)
(গ) মা আয়িশাহ (রাঃ) বলেন,
مَا كَانَ يَزِيْدُ فِيْ رَمَضَانَ وَلاَ غَيْرِهِ عَلَى إِحْدى عَشَرَةَ رَكْعَةً
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও অন্য সময়ে (রাতে) ১১ রাকআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। (বুখারী : ২০১৩; মুসলিম : ৭৩৮) অর্থাৎ তারাবীহ ৮ রাকাআত এবং বিতর ৩ রাকাআত।
(ঘ) ইবনে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
أَمَرَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أُبَيْ بْنِ كَعَبٍ وَتَمِيْمَا الدَّارِيِّ أَن يَّقُوْمَ لِلنَّاسِ بِإحْدى عَشَرَةَ رَكْعَةٍ
‘উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু (তার দুই সঙ্গী সাহাবী) উবাই ইবনে কাব তামীম আদদারীকে এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন লোকদেরকে নিয়ে (রমযানের রাতে) ১১ রাকআত কিয়ামুল্লাইল (অর্থাৎ তারাবীহর সালাত) আদায় করে। (মুয়াত্তা মালেক : ১/১১৫)
উল্লেখ্য যে, সৌদী আরবের মসজিদগুলোতে তারাবীহ ও বিতর মিলে ১১ বা ১৩ রাকআত পড়লেও মাক্কার হারামে ও মাদ্বীনার মসজিদে নববীতে তারাবীহ ২০ এবং বিতর ৩ মিলিয়ে মোট ২৩ রাকআত পড়ে থাকে।
মূলত তারাবির মূল বিষয় লম্বা কিয়ামে সালাত আদায় করা অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে আদায় করা। রাসুল (সাঃ) এর ৮ রাকাত শেষ করতে প্রায় ফজর হয়ে যেত। বর্তমানে আমাদের উপমহাদেশে এই সালাতের রাকাত সংখ্যা নিয়ে প্রচুর বিরোধ দেখা যায় এমনকি এটা নিয়ে বিভিন্ন দলে উপদলেও মানুষ বিভক্ত হয়ে যায় এবং কোথাও বা বিবাদে লিপ্ত হতে দেখা যায়। মূল বিষয় হচ্ছে আপনি ইমামের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিয়াম করবেন তা ৮ রাকাত হোক বা ২০ রাকাত হোক। রাকাতের সংখ্যা নিয়ে নিজেদের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই কেননা রাসুল (সাঃ) রাকাতের সংখ্যা ফিক্সড করে দেন নাই বরং তা উন্মুক্ত। আপনি যদি একাকী ঘরে আদায় করেন তো ২ রাকাত ২ রাকাত করে যত রাকাত খুশি আদায় করতে পারেন আর শেষ করতে চাইলে ১ রাকাত বিতর আদায় করে নিবেন (বিতর ১, ৩, ৫ বা ৭, ৯ রাকাত দিয়ে আদায় করা যায়)। তবে আমাদের দেশে দ্রুতবেগে কিরাত করে যেভাবে তারাবী আদায় করা হয় তা কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং সুন্নাতের বরখেলাপ। সূরা কিরাত হতে হবে স্বাভাবিক গতিতে, ১ ঘণ্টায় ২০ রাকাত আদায় করা থেকে ১ ঘণ্টায় ৮ রাকাত উত্তম তেমনি ১ ঘণ্টায় ৮ রাকাত থেকে দেড় ঘণ্টার ২০ রাকাত উত্তম।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy