1 Answers
ইসলামে কিছু ক্ষেত্রে লটারীর বৈধতা আছে। উদাহরণ দিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ যদি দুই ব্যক্তি একই পণ্যের মালিকানা দাবি করলে এবং তাদের কারো কাছে কোন দলীল-প্রমাণ না থাকলে এক্ষেত্রে ইসলামে লটারীর বৈধতা আছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দুই ব্যক্তি একটি জন্তুর মালিকানা দাবি করলো কিন্তু তাদের কারো নিকটই দলীল-প্রমাণ ছিলো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে লটারী করে তাতে যার নাম উঠে, তাকে শপথ করার পর তা নিতে বলেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নম্বরঃ ২৩২৯ সহীহুল বুখারী ২৬৭৪, আবূ দাউদ ৩৬১৬, হাদিসের মানঃ সহিহ। অথবা লটারীর মাধ্যমে মীমাংসা করা যাবে। ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ছয়টি গোলাম ছিল, এদের ব্যতীত তার আর কোন মাল ছিলো না। সে তার মৃত্যুর পূর্বে তাদেরকে দাসত্বমুক্ত করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লটারীর মাধ্যমে এদের মধ্যে দুই জনকে দাসত্বমুক্ত করে দেন এবং চারজনকে গোলাম হিসাবে বহাল রাখেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪৫ মুসলিম ১৬৬৮, তিরমিযী ১৩৬৪, নাসায়ী ১৯৫৮, আবূ দাউদ ৩৯৫৮, ৩৯৪১ হাদিসের মানঃ সহিহ)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে যেতে ইচ্ছে করতেন তখন স্ত্রীদের মধ্যে লটারী করে নিতেন। আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে যাবার ইরাদা করতেন, তখনই স্ত্রীগণের মাঝে লটারী করতেন। এক সফরের সময় আয়িশা (রাঃ) এবং হাফসাহ (রাঃ)-এর নাম লটারীতে ওঠে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রীতি ছিল যখন রাত হত তখন আয়িশা (রাঃ)-এর সঙ্গে এক সওয়ারীতে আরোহণ করতেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। এক রাতে হাফসাহ (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললেন, আজ রাতে তুমি কি আমার উটে আরোহণ করবে এবং আমি তোমার উটে, যাতে করে আমি তোমাকে এবং তুমি আমাকে এক নতুন অবস্থায় দেখতে পাবে? আয়িশা (রাঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আমি রাযী আছি। সে হিসাবে আয়িশা (রাঃ) হাফসাহ (রাঃ)-এর উটে এবং হাফসাহ (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর উটে সওয়ার হলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ)-এর নির্ধারিত উটের কাছে এলেন, যার ওপর হাফসাহ (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং তাঁর পার্শ্বে বসে সফর করলেন। পথিমধ্যে এক স্থানে সবাই অবতরণ করলেন। আয়িশা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হলেন। যখন তাঁরা সকলেই অবতরণ করলেন তখন আয়িশা (রাঃ) নিজ পা দুটি ‘ইযখির’ নামক ঘাসের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমার জন্য কোন সাপ বা বিচ্ছু পাঠিয়ে দাও, যাতে আমাকে দংশন করে। কেননা, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু বলতে পারব না। (সহীহ বুখারী হাদিস নম্বরঃ ৫২১১ হাদিসের মানঃ সহিহ)। তবে লটারী যদি জুয়া হয় তা প্রকাশ্য হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর- যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা মায়িদাহঃ ৯০) শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাঁধা দিতে। তবে কি তোমরা বিরত হবে না? (সূরা মায়িদাহঃ ৯১) জনাব! লটারী জুয়া ও অনুরূপ যাবতীয় খেলা হারাম, এগুলো মানুষের মাঝে ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এগুলি থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে এর সমাধান।