4 Answers
বিজ্ঞানীরা বলেন যে বেশিরভাগ প্রাণীর শরীর থেকে বিশেষ কিছু হরমোন নিঃসরণ হয়। এই বিশেষ হরমোন গুলোর কারণে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।এছাড়া বলা হয়ে থাকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহজাত কৌতুহলের ফলেও মানুষ প্রেমে পড়ে।আবার একাকীত্ব দূর করার ইচ্ছা থেকেও অনেকে প্রেমে পড়ে।
বিজ্ঞানের ভাষায়, প্রেম বা ভালবাসা হলো আমাদের মস্তিষ্কের থ্যালামাসের একধরনের রাসায়নিক অবস্থা | যার জন্য একাধারে দায়ী আমাদের জিন। প্রেমের প্রথমদিকে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, গাল – কান লাল হয়ে যাওয়া, হাতের তালু ঘেমে যাওয়ার উপসর্গ গুলো দেখা যায়; বিজ্ঞানীদের মতে সেসবের পেছনে দায়ী হলো ডোপামিন, নরেপিনেফ্রিন হরমোন। মাঝে মাঝে দেখা যায় কারো কারো প্রেমের আবেগ কমে যায়। তার কারণ মস্তিষ্ক থেকে ওই হরমোনগুলো নিঃসৃত হয় না। আবার এও দেখা গেছে যে কোনো মানুষের শরীরে কৃত্রিমভাবে এই হরমোন রসায়ন প্রয়োগ করা হলে তাদের মাঝে সেই প্রেমের অনুভূতি হয়। দুই প্রেমিক প্রেমিকার সদা ঘোর লাগা অবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি? এ নিয়ে রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিদ হেলেন ফিশার এবং স্নায়ুচিকিৎসক লুসি ব্রাউন, আর্থার অ্যারোন প্রমুখ বিজ্ঞানীরা প্রায় ৪০ জন প্রেমে পড়া ছাত্রছাত্রীদের উপর এক গবেষণা চালান। তাদের গবেষণার ধরনটি ছিলো এরকমের। প্রেমিক-প্রেমিকাদের সামনে তাদের ভালবাসার মানুষটির ছবি রাখা হল, এবং তাদের মস্তিষ্কের ফাংশনাল এমআরআই (fMRI) করা হলো। দেখা গেলো, এ সময় তাদের মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল এবং কডেট অংশ উদ্দিপ্ত হচ্ছে, আর সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে ডোপামিন নামক এক রাসয়ায়নিক পদার্থের নিঃসরণ ঘটছে। অবশ্য কারো দেহে ডোপামিন বেশি পাওয়া গেলেই যে সে প্রেমে পড়েছে তা নাও হতে পারে। আসলে নন-রোমান্টিক অন্যান্য কারণেও কিন্তু ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়তে পারে। যেমন, গাঁজা কিংবা কোকেইন সেবন করলে। সেজন্যই আমরা অনেক সময়ই দেখি ভালবাসায় আক্রান্ত মানুষদের আচরণও অনেকটা কোকেইনসেবী ঘোরলাগা অবস্থার মতোই টালমাটাল হয় অনেক সময়ই। তবে ভালবাসার এই রসায়নে কেবল ডোপামিনই নয় সেই সাথে জড়িত থাকে অক্সিটাইসিন, ভেসোপ্রেসিনসহ নানা ধরনের বিতিকিচ্ছিরি নামের কিছু হরমোন। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই হরমোনগুলো নাকি ‘ভালবাসা টিকিয়ে রাখতে’ মানে প্রেমিক প্রেমিকার বন্ধন দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। এমনকি বিজ্ঞানীরা এও বলেন কেউ মনোগামী হবে না বহুগামী হবে – তা অনেকটাই কিন্তু নির্ভর করছে এই হরমোনগুলোর তারতম্যের উপর। দেখা গেছে রিসেপটর বা গ্রাহক জিনে ভেসোপ্রেসিন হরমোনের আধিক্য থাকলে তা পুরুষের একগামী মনোবৃত্তিকে ত্বরান্বিত করে। বিজ্ঞানীরা প্রেইরি ভোলস আর মোন্টেইন ভোলস নামক দুই ধরনের ইঁদুরের উপর গবেষণা চালিয়ে তারা দেখেছেন, একগামিতা এবং বহুগামিতার মত ব্যাপারগুলো অনেকাংশেই হরমোনের ক্রিয়াশীলতার উপর নির্ভরশীল। এমনকি বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম উপায়ে ভেসোপ্রেসিনের প্রবাহকে আটকে দিয়ে একগামী ইদুঁরকে বহুগামী, কিংবা অতিরিক্ত ভেসোপ্রেসিন প্রবেশ করিয়ে বহুগামী ইঁদুরকে একগামী করে ফেলতে সমর্থ হয়েছেন।
মানুষটির সাথে পরিচয় খুব বেশিদিনের না। কিন্তু কিছুদিন মেলামেশার পরেই আপনি বুঝতে পারছেন যে আপনি তার প্রেমে পড়েছেন। এক মূহুর্তও থাকতে পারছেন না তাকে ছাড়া। প্রতিদিনই দেখা করতে ইচ্ছে হয় তার সাথে। আর ফোনে তো কথা হচ্ছেই কিছুক্ষণ পর পর। মনের ভেতরে কেমন যেন একটা চাপা অস্থিরতা কাজ করছে। কথা নেই বার্তা নেই হুট করে এভাবে প্রেমে পড়ার কোনো মানে আছে? কেন প্রেমে পড়ে মানুষ? মানুষ কেন প্রেমে পড়ে?’- জেনে নিন ৭টি বিচিত্র কারণ!
‘মানুষ কেন প্রেমে পড়ে’ এই কথাটি হয়তো অনেকেই মনে মনে ভেবেছেন। প্রেমে পড়ার পেছনে আছে বেশ কিছু কারণ। শারীরিক ও মানসিক উদ্দীপনার সমন্বয়েই মূলত মানুষ প্রেমে পড়ে। তবে আরও আছে কিছু বিচিত্র কারণ। আসুন জেনে নেয়া যাক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে প্রেমে পড়ার ৭টি কারণ সম্পর্কে।
শারীরিক আকর্ষণটা প্রথমেই নাড়া দেয়
পুরুষের প্রতি নারীর সহজাত আকর্ষণ একটি চিরন্তন ব্যাপার। প্রেমে পড়ার মূল একটি কারণ হচ্ছে নারী-পুরুষের সহজাত আকর্ষণ। দুটি মানুষ পরষ্পরের শারীরিক সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষনবোধ করে এবং একে অপরের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। এই আকর্ষণটাই প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে প্রথমেই।
একাকীত্ব দূর করার ইচ্ছা
অধিকাংশ মানুষই একা থাকতে পছন্দ করে না। একাকীত্বের ভয়ে মানুষের মন সব সময়েই সঙ্গী খোঁজে। আর তাই যখন কাউকে সব কিছু মিলিয়ে পছন্দ হয় তখন তার প্রতি বিশেষ দূর্বলতা সৃষ্টি হয়। তার সঙ্গ পাওয়ার জন্য এবং কথা বলার জন্য মন অস্থির থাকে। সেই মানুষটির সঙ্গে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়ার বাসনা থেকেই মানুষ প্রেমে পড়ে সেই মানুষটির।
হরমোনের প্রভাব
বেশিরভাগ প্রাণীর শরীর থেকে বিশেষ কিছু হরমোন নিঃসরণ হয়। এই বিশেষ হরমোন গুলোর কারণে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
এই হরমোন গুলো মস্তিষ্কে বিশেষ ধরণের উদ্দীপনা জাগায় যা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করে এবং মানুষকে প্রেমে পড়তে সহায়তা করে। অক্সিটোসিন ও ভাসোপ্রেসিন হলো দুটি প্রধান হরমোন যা মনে রোমান্স সৃষ্টি করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহজাত কৌতুহল
প্রতিটি মানুষেরই তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহজাত কৌতুহল থাকে। বিপরীত লিঙ্গের মানুষটি কেমন, তার চিন্তা ভাবনা কেমন, তার শারীরিক গঠন, মানসিক দূর্বলতা, জীবনযাপন, স্বভাব ইত্যাদি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতুহল থাকে। আর এই কৌতুহলের কারণেই একসঙ্গে বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছে জাগে মনে। ফলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রেম নিয়ে ফ্যান্টাসি
ছোটবেলা থেকেই বেশিরভাগ মানুষ প্রেম বিষয়ক কিছু ফ্যান্টাসি নিয়ে বেড়ে ওঠে। এই ফ্যান্টাসি গুলোর প্রভাবেও প্রেমে পড়ে। বাস্তব প্রেম আর ফ্যান্টাসির সাথে যখন মিল পাওয়া যায় না, তখন হতাশও হয়।
বন্ধুদের প্রভাব
বন্ধুরা অনেক সময় প্রেমের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলে। আপনার সাথে বিপরীত লিঙ্গের কারো মেলামেশা বা বন্ধুত্ব দেখলে অনেক সময় কাছের বন্ধুরা অনেক রকম রসিকতা করে দুজনকে নিয়ে। আবার কেউ কেউ জোর খাটিয়ে বলেই ফেলে যে আপনার উচিত এখন বিপরীত লিঙ্গের মানুষটির সাথে প্রেম করা।
এছাড়াও আশে পাশের বন্ধুদের সুখী প্রেমের সম্পর্ক দেখেও অনেকে প্রেম করার প্রতি আগ্রহবোধ করে এবং প্রেমে পড়ে।
গল্পের বই/নাটক/ সিনেমার প্রভাব
ছোটবেলার রূপকথার বইগুলোর কথা মনে আছে? গল্পের শেষে রাজকুমার আর রাজকুমারী সুখে শান্তিতে বসবাস করার কথা তো আমরা সবাই পড়েছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাটক ও সিনেমায় প্রেমিক/প্রেমিকার রোমান্টিক সম্পর্ক গুলো দেখেও প্রেম করার ইচ্ছে হয়েছে অনেকের মনে। বাস্তব জীবনে প্রেমে পড়ার পেছনে এগুলোর ভূমিকা থাকে। গল্প কিংবা সিনেমার সুন্দর প্রেম কাহিনী গুলোকে নিজের জীবনে প্রতিফলিত করার স্বপ্ন থেকেই অনেকে প্রেমে পড়ে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy