ফরজ নামাজ আদায় করার সময়, 4 রাকাত বিশিষ্ট নামাজ আদায় করার সময়।  কোন ব্যক্তি যদি 2 রাকাত নামাজ মিছ করে, তাহলে কীভাবে বাকী নামাজ আদায় করবে। এবং 3 রাকাত মিছ করলে কীভাবে আদায় করবে?
2859 views

2 Answers

মাসবুকের নামাজ নিয়ে বিস্তারিত রেফারেন্স বিত্তিক লেখার চেষ্টা করছি।আশা করি আমার প্রশ্নকর্তা ভাইসহ আমরা সবাই উপকৃত হবো।  #যে মুক্তাদি (মুসল্লি) ইমামের সাথে এক বা একাধিক রাকাত পায়নি তাকে মাসবুক বলে। মাসবুক ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) এমন ধীরে ধীরে পড়বে যেন তার তাশাহুদ শেষ হতে হতে ইমামের দুরূদ ও দোয়ায়ে মাছুরা শেষ হয়ে যায়। মাসবুকের তাশাহুদ যদি আগেই শেষ হয়ে যায় তাহলে সে চুপচাপ বসে থাকতে পারে। (ফতওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ ৩/৩৮২,ফতওয়ায়ে শামী ২/২২০) ইমাম সেজদায়ে সাহু দিলে মাসবুকও সেজদায়ে সাহু করবে তবে সেজদায়ে সাহুর পর সালাম ফিরাবে না। ভুলে যদি সালাম ফিরিয়ে দেয় তাহলে আবার সেজদায়ে সাহু করতে হবে। (ফতওয়ায়ে আল বাহরুর রায়েক-২/১৭৬,ফতওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ-৩/৩৭৯) ইমামের উভয় দিকে সালাম ফিরানোর সামান্য পর মাসবুক তার অবশিষ্ট নামাজ পড়ার জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠে দাঁড়াবে। একদিকে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে মাসবুকের উঠে দাঁড়ানো উচিত নয় কারন এতে সে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে । যেমনঃ ইমাম সাহেব নামাজের মধ্যে ভুল বশত কোন ওয়াজিব ত্বরক (ছুটে গেলে) করলে ইমাম সাহেবের ওপর সাহু সেজদা ওয়াজিব এমতাবস্থায় আপনি যদি একদিকে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যান তাহলে আপনি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এবং ইহা সুন্নাতের খেলাফ। মাসবুক অবশিষ্ট নামাজ পড়ার জন্য উঠে প্রথমে ছানা,আউযুবিল্লাহ্ ও বিসমিল্লাহ্ পড়বে। এরপর কেরাত মিলানো রাকাতগুলো পড়বে। পরিশেষে কেরাত বিহীন রাকাত পড়ে নিবে। মাছবূকের এক রাকাআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে : ইমাম উভয় সালাম ফিরানোর পর মাছবূক আল্লাহু আকবার বলে উঠবে, ছানা পড়বে, আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ সহ সূরা ফাতিহা পড়বে, তারপর বিসমিল্লাহ সহ সূরা মিলাবে এবং রুকু সাজদা ও বৈঠক করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে। মাছবূক দুই রাকাআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বে : ইমাম উভয় সালাম ফিরানোর পর মাছবূক আল্লাহু আকবার বলে উঠবে এবং পূর্ব বর্ণিত নিয়মে প্রথম রাকাআত আদায় করবে।তিন রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হলে বৈঠক করে (বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়তে হবে) আর চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হলে বৈঠক না করেই দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠবে। এ রাকাতে ছানা ব্যতীত এবং শুধু বিসমিল্লাহ সহ সূরা ফাতিহা ও সূরা/কিরাত মিলিয়ে শুধু সাজদা ও বৈঠক কের সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে। মাসবূক তিন রাকাত ছুটে গেলে কিভাবে পড়বে: মাছবূক যদি ইমামের সাথে এক রাকাত পায় এবং নি রাকাত না পায়, তাহলে ইমামের উভয় সালাম ফিরানোর পর উঠে পূববর্তী নিয়মে প্রথম রাকাত পড়বে এবং বৈঠক করে দ্বিতীয রাকাতের জন্য উঠবে। দ্বিতীয় রাকাতে সূরা/কিরাত মিলাতে হবে এবং বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠবে।তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে কোন সূরা/কিরাত মিলাতে হবে। মাসবুক কোন রাকাত না পেলে কিভাবে পড়বঃ মাছবূক যদি কোন রাকাত না পায় শুধু শেষ বেঠকে এসে শরিক হয়, তাহলে ইমামের উভয় সালাম ফিরানোর পর উঠে একাকি যেভাবে নামাজ পড়া হয় সেভাবে পূণ নামাজ আদায় হবে।

2859 views

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় যে ব্যক্তি জামাতের প্রথম রাকাতে শরিক হতে পারেনি তাকে মাসবুক বলে। মাসবুক ব্যক্তির নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম হলো সে ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থাতেই নামাজে শরিক হবে। সালাম ফিরানো পর্যন্ত ইমামের অনুসরণ করবে আর 'ইমামের' শেষ বৈঠকে ধীরে ধীরে তাশাহুদ পড়বে দুরুদ ও দোয়া পড়বে না। এরপর ইমাম দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করার পর মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া বাকি নামাজ আদায় করবে। বাকি নামাজ আদায় করার নিয়ম হলোঃ দাঁড়িয়ে প্রথমে সানা, আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়বে। এবং কেরাত পড়ার ক্ষেত্রে তার ছুটে যাওয়া রাকাতকে প্রথম ও শুরু রাকাত ধরে ফাতেহা পড়ার পর সুরা মেলাবে। ইই নিয়মানুসারে কোনো ব্যক্তির চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের জামাতে দুই রাকাত ছুটে গেলে যথারীতি উভয় রাকাতে সুরা কেরাত মিলিয়ে পড়বে এবং এর প্রথম রাকাতে না বসে শেষ রাকাতে বসে আত্তাহিয়াতু, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালাম ফেরাবে। যদি চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের জামাতে তিন রাকাত ইমামের পেছনে না পায়, তাহলে সালাম ফেরানোর পর ছুটে যাওয়া রাকাতের মধ্যে প্রথম দুই রাকাতে ফাতেহার সঙ্গে সুরা মিলিয়ে পড়বে এবং শেষ রাকাতে সুরা না মিলিয়ে শুধু ফাতেহা পড়বে। আর প্রথম রাকাতে বসে আত্তাহিয়াতু পড়ে উঠে যাবে। এরপর দ্বিতীয় রাকাতে না বসে শেষ রাকাত পড়ে বৈঠক করবে। (রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৬)।

2859 views

Related Questions