3 Answers
ক্যান্সার মূলত ভিতরের ঘা। ক্যান্সার হলে মানুষের কোষ নষ্ট হতে থাকে। তখন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্রয়োগ করা হয়। আর এতে ভিতরের ঘা নিরাময় হলেও হতে পারে। তবে এর প্রভাবে উপকারের মতো অপকারও হয়। আইসোটোপের তেজস্ক্রিয় রশ্মি ভালো কোষ গুলোকেও ধ্বংস করে দেয়। এভাবে অনেক সময় ক্যান্সার নিরাময় করা হয়। তবুও তার মৃত্যু ঝুঁকি থেকে যায়।
ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ হচ্ছে: • খুব ক্লান্ত বোধ করা • ক্ষুধা কমে যাওয়া • শরীরের যে কোনো জায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেওয়া • দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙ্গা • মলত্যাগে পরিবর্তন আসা (ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া) • জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা • অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া • ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া ক্যান্সারের চিকিত্সায় আধুনিক চিকিত্সকরা বেশ কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করেন। অস্ত্রোপচার: শরীরের যে জায়গাটি ক্যান্সার আক্রান্ত হয় সেটির ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো এবং তার আশেপাশের কোষগুলোকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়। ক্যান্সার যদি অল্প একটু জায়গা জুড়ে থাকে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। রেডিওথেরাপি: নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরের অংশবিশেষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করে সেই জায়গার ক্যান্সার-কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়। কেমোথেরাপি: এই ব্যবস্থায় ক্যান্সারকোষকে ধ্বংস করতে অ্যান্টি-ক্যান্সার (সাইটোটক্সিক) ড্রাগস বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ৫০টিরও বেশি ধরনের কেমিওথেরাপি ওষুধ রয়েছে। এগুলোর কোনোটা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল হিসেবে খেতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ওষুধগুলোকে স্যালাইনের সাথে বা অন্য কোনোভাবে সরাসরি রক্তে দিয়ে দেওয়া হয়। রক্তের সাথে মিশে এই ওষুধগুলো শরীরের যেখানে যেখানে ক্যান্সার কোষ রয়েছে সেখানে গিয়ে ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। হরমোন থেরাপি: শরীরের কিছু হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করার মাধ্যমে এই চিকিত্সা করা হয়। শরীরের বৃদ্ধির সাথে হরমোনের একটা সম্পর্ক রয়েছে। কোনো কোনো ক্যান্সার এ হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হরমোন থেরাপি ব্যবহৃত হয়। সহায়ক চিকিৎসা: ক্যান্সারের শারীরিক চিকিত্সার পাশাপাশি রোগীদের মানসিক চিকিত্সার ব্যাপারে এখন জোর দিচ্ছেন চিকিত্সকরা। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীরা বেশ মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যান, অনেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গেও পরেন। এ কারণে অনেক সময় তাদের অবস্থা বেশি গুরুতর না হলেও অনেকে দ্রুত মারা যান। ফলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন চিকিত্সকরা এবং উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংগঠন কাজও করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্তদের গ্রুপও দেখা যায়। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেন। এর পাশাপাশি যোগ, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমেও রোগীদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি মানসিক স্বস্তির জন্য কেউ যদি ধর্মীয় বা সামাজিক কোনো কাজে নিয়োজিত হতে চান সে ব্যাপারেও তাদেরকে উত্সাহ দেওয়া হয়। এসব ছাড়া, বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন ক্যান্সারের চিকিত্সায় অব্যর্থ ওষুধ আবিস্কারের। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে তোলে এ ধরনের ওষুধ তৈরির ব্যাপারে এখন গবেষণা চলছে। এছাড়াও ক্যান্সারের ভ্যাকসিন তৈরির ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনো এগুলো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ক্যান্সার থেকে বাঁচতে চিকিত্সকরা কিছু সাবধানতা অবলম্বন করার কথাও বলেন, বলেন কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার কথা। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমানো যায়। নিয়মিত ব্যায়াম: প্রত্যেকদিন নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা; যেমন-দৌড়ানো, সাইকেল চালনো, নাচ করা, হাঁটা। খাদ্যভ্যাস: ধূমপান বা মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া বা পরিমাণে কমিয়ে আনা। পান-সুপারি জর্দা, তামাকপাতা খাওয়া বন্ধ করা। চর্বিজাতীয় পদার্থ কম খাওয়া। সম্ভব হলে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা কমিয়ে দেওয়া। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল এবং আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া। সচেতনতা: বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন মেখে বের হওয়া। নিয়মিত ডাক্তার দেখানো। সেটা সম্ভব না-হলে শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া। ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে শরীর পরীক্ষা করানো।
এটার ব্যাখ্যা অনেক বড়।ক্যান্সার বিভিন্ন প্রকার আছে।জটিল রোগে ক্যান্সার,মৃত্যু নিশ্চিত।আর যাদের একটু হলেও বাচার চান্স আছে তারা আবার উন্নত দেশে ব্যয়বহুল চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকেই সুস্থ হয়।আবার যদি রোগ আগেই ধরা পড়ে তাহলেতো ভালো।বেশির ভাগই শেষ ধাপে ধরা পরে।৫০০থেকে২৬জন শিশু অত্যধিক জটিল আর ব্যয়বহুল চিকিৎসার মাধ্যমে বেচে যায়,শুধুমাত্র শিশু,তাও আবার উন্নত দেশে!