2 Answers
ইসলামে শুধুমাত্র মুখ না ঢেকে পর্দা করা অনুমোদিত তবে তা শর্ত সাপেক্ষে। আল্লাহ বলেন, মুমিন পুরুষদেরকে বলুন! তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে, এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। (আন-নুরঃ ৩০) নিজের সতরকে অন্যের সামনে উন্মুক্ত করা থেকে দূরে থাকাও যৌনাঙ্গ সংযত করার পর্যায়ভুক্ত। (ফাতহুল কাদীর) পুরুষের জন্য সতর তথা লজ্জাস্থানের সীমানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত সতর। (দারুকুতনীঃ ৯০২) শরীরের এ অংশ স্ত্রী ছাড়া আর কারোর সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে খোলা হারাম। জারহাদে আল- আসলামী বৰ্ণনা করেছেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে আমার রান খোলা অবস্থায় ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি জানো না, রান ঢেকে রাখার জিনিস? (তিরমিযীঃ ২৭৯৬, আবু দাউদঃ ৪০১৪) অন্য একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিজের স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া বাকি সবার থেকে নিজের সতরের হেফাজত করো। এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করে, আর যখন আমরা একাকী থাকি? জবাব দেনঃ এ অবস্থায় আল্লাহ থেকে লজ্জা করা উচিত, তিনিই এর হকদার। (আবু দাউদঃ ৪০১৭, তিরমিযীঃ ২৭৬৯, ইবনে মাজাহঃ ১৯২০) আর মুমিন নারীদেরকে বলে দাও তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাই-এর ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ, স্বীয় মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (আন-নুরঃ ৩১) নারীদের লজ্জাস্থান আপদমস্তক তথা সারা শরীর। একজন নারী বাইরে বের হলে সারা শরীক ঢেকে বের হবে এবং এমনভাবে ঢাকবে যাতে শরীরের উচু-নিঁচু অঙ্গের তারতম্য বুঝা না যায়। সুতরাং নারীরাও পর পুরুষ হতে নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করবে। (وَلَا يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا) তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে -সাধারণত প্রকাশ থাকে কোন সৌন্দর্য যা পর্দা করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে আলেমদের তিনটি মত রয়েছেঃ ১. নারীদের শরীরের অন্তর্গত সৌন্দর্য, যেমন হাতের তালু ও চেহারা। এগুলো সাধারণত প্রকাশ পেয়ে যায়, ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না। যেমন সালাত আদায় করতে গেলে, হজ্জ করতে গেলে, কারো সাথে কিছু আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়। এতটুকু পরিমাণ নারীর শরীর থেকে প্রকাশ পেয়ে গেলে গুনাহ হবে না। এ পক্ষে মত দিয়েছেন ইমাম কুরতুবী, যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবানী (رحمه الله)। আয়িশাহ (رضي الله عنها) হতে বর্ণিত, আসমা বিনতে আবূ বকর (رضي الله عنها) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন, এমনবস্থায় তার গায়ে পাতলা পোশাক ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং তাকে বললেন: হে আসমা! একজন নারী যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখন তার থেকে এরূপ বেশি দেখা বৈধ নয়। এ কথা বলে তিনি চেহারা ও দুই হাতের তালুর দিকে ইশারা করলেন। (আবূ দাঊদ হা: ৪১০৪, মিশকাত হা: ৪৩৭২, হাসান) ২. বাইরের সৌন্দর্য যা শরীরের অঙ্গ নয়, এ সৌন্দর্য প্রকাশ পেলে শরীরের প্রতি দৃষ্টি যাবে না। যেমনন ইবনু মাসউদ (رضي الله عنه) বলেন: মহিলাদের গায়ের সব পোশাকের ওপর যে কাপড় থাকে বা চাদর। ইমাম শানকিত্বী (رحمه الله) বলেন; আমাদের কাছে এ কথাই বেশি প্রাধান্যযোগ্য এবং সংশয় ও ফেতনা থেকে অধিক সতর্কতা। ৩. শরীরের সাথে সম্পৃক্ত এমন বহিরাগত সৌন্দর্য, কিন্তু এ সৌন্দর্য প্রকাশ পেলে শরীরের অঙ্গ দেখা যাবে। যেমন মেহেদী. সুরমা ও অনুরূপ। (وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰي جُيُوْبِهِنَّ) ‘তাদের ঘাড় ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে’ যাতে মাথা, ঘাড়, গলা ও বুকের পর্দা হয়ে যায়। কারণ এ সমস্ত অঙ্গ খুলে রাখার অনুমতি নেই। সুতরাং যে সকল নারীরা বুকে, মাথায় কাপড় না দিয়ে বের হয় তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে এ ব্যাপারে আলোচনা রয়েছে। আয়িশাহ (رضي الله عنها) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল স্ত্রীলোকদের ওপর রহম করুন যারা প্রথমে হিজরত করেছিল। যখন এ আয়াত নাযিল হয় তখন তারা নিজেদের চাদর ফেড়ে দোপাট্টা বানিয়েছিল। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৫৮) (وَلَا يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُوْلَتِهِنَّ) অর্থাৎ বেগানা পুরুষের সামনে যে সৌন্দর্য প্রকাশ করা নিষিদ্ধ ছিল ততটুকু পরিমাণ সৌন্দর্য আয়াতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সামনে প্রকাশ করতে পারবে। অর্থাৎ হাত, পা, চেহারা সাধারণত উক্ত ব্যক্তিদের সামনে খুলে রাখা যাবে। তবে স্বামীর কথা ভিন্ন। কারণ স্বামীর সাথে কোনরূপ পর্দা নেই। যেভাবে ইচ্ছা চলাফেরা করতে পারবে।
না।মুখ না ঢেকে পর্দার অনুমোদন ইসলামে নেই। মহিলারা যখন বাহিরে বের হবে তখন চেহারা ঢেকেই বের হবে।সূরা আহযাবে আল্লাহ পাক বলেন,হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।(সূরা আহযাব,৫৯) এই আয়াতের তাফসিরে ইবনে কাসির রহঃ ইবনে আব্বাস রাঃ-এর একটি রেওয়ায়াত উল্লেখ করেছেন; ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, আয়াতে মুসলিম নারীদেরকে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় চেহারা আবৃত করে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।তবে দেখার জন্য শুধু এক চোখ খোলা রাখবে। আলবানি রহঃ রেওয়াতটি অন্য সনদে সহিহ বলেছেন।(জিলবাবুল মারআহ,৮৮) ইবনে কাসির রহঃ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের রহঃ ভাষ্য এভাবে উল্লেখ করেছেন; মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেন,আমি উল্লেখিত আয়াতে "তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়" সম্পর্কে বিখ্যাত তাবেয়ী আবিদা আস-সালবানিকে রহঃ জিজ্ঞেস করলাম,তো তিনি তাঁর মাথা ও চেহারা ঢেকে ফেললেন, শুধু বাম চোখ খোলা রাখলেন। এছাড়াও এই আয়াতটি চেহারা আবৃত রাখার প্রতি ইঙ্গিত করে; তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।(সূরা আহযাব,৫৩ নং আয়াতের একাংশ) যখন রাসূলের সাঃ পবিত্র স্ত্রীগণের জন্য এমন নির্দেশ, অথচ তাঁরা উম্মতের মা, তাহলে অন্যদের জন্য কি নির্দেশ হতে পারে? সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতটি থেকেও এটাই প্রতিয়মান হয়। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে।(আয়াতের একাংশ) আয়াতে "তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান,তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে" এর ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদদের মতানৈক্য দেখা যায়; ইবনে আব্বাস রাঃ ও আরো কিছু আলেমের মতে "যা সাধারণত প্রকাশমান" বলতে চেহারা, হাতের কব্জি ও আংটি উদ্দেশ্য। আবু ইসহাক আস-সাবিয়ী আবুল আহওয়াসের সূত্রে ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণনা করেন, এখানে উদ্দেশ্য,কানের দুল, হাতের বালা,পায়ের মল ও মালা। ইবনে উমার রাঃ থেকে আরেকটি বর্ণনা এরকম আছে; মহিলাদের সৌন্দর্য যা প্রকাশমান তা দুধরণের,এক প্রকার যা শুধু স্বামী দেখতে পারে,আরেক প্রকার যা অন্যদের দেখা জায়েজ, আর তা হল কাপড়ের উপরের অংশ। তাফসিরে তাবারিতে ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে সহিহ সনদে এরকমই বর্ণিত আছে। ইবনে কাসির রহঃ শেষের মতকে প্রাধান্য দিয়ে প্রথম মতের পক্ষে রেওয়ায়েতের জবাব প্রদান করেছেন।(তাফসিরে ইবনে কাসির,উল্লেখিত আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) উল্লেখিত আয়াতের আরেক অংশ "তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে" দ্বারাও চেহারা আবৃত করণ অপরিহার্য হওয়া বুঝা যায়। কারণ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহ পাক প্রথম শ্রেণীর মহিলাদের উপর রহম করুন! যখন উক্ত অংশ অবতীর্ণ হয়, তাঁরা তাঁদের চাদর ছিঁড়ে নিজেদেরকে আবৃত করে নেয়।(বুখারী,৪৭৫৮) ইবনে হাজার আসকলানী রহঃ উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন,অর্থাৎ তাঁরা তাঁদের চাদর দিয়ে চেহারা আবৃত করে নেয়।(ফাতহুল বারীতে হাদিসটির ব্যখ্যা দ্রষ্টব্য) জনাব!এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট বুঝা গেল যে, ইসলামে চেহারা আবৃত না করে পর্দা করার অনুমোদন নাই।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy