আমার উচ্চতা ৫'৬ ইঞ্চি বয়স ২১ ওজন ৮০ কেজি। পেট ও বড়। আমি কিভাবে মেদ ও পেট কমারে পারি। প্লিজ হেল্প করুন।
2874 views

3 Answers

আপনি মর্ডান হারবালের স্মীম টনিক ব্যবহার করতে পারেন । সম্পূর্ণ পার্শপ্রতিক্রিয়া মুক্ত ।

2874 views

স্বাস্থ্য সম্মত ভাবেই আপনি আপনার ওজন কমাতে পারবেন। ওজন কমাতে পরিশ্রম ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্য তালিকা ও জীবন যাত্রার পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়তি ওজন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুকিপূর্ণ। ওজন কমান প্রাকৃতিক নিয়মে। এ নিয়ম স্বাস্থ্যসম্মত ও ঝুকিবিহীন। কয়েকটি কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে ওজন কমান আর ঝুকিমুক্ত থাকুন বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে। পর্ব ১ ক) খাদ্যাভ্যাসঃ জেনে নিন প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়। নতুন করে খাদ্যাভাস শুরু করুন, যাতে কিনা আপনার খাদ্যে ক্যালোরির পরিমাণ কমে যায়। ১। মসলা মসলাজাতীয় খাবার, যেমন :আদা, দারুচিনি, গোল মরিচ এগুলো প্রতিদিনের খাবারে রাখতে হবে। মসলাজাতীয় খাবার হলো ওজন কমানোর কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি। নিয়মিত খাবারে এদের ব্যবহার ওজন কমাতে সাহায্য করবে। ২। মধু ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওজন কমানোর আরেকটি ভালো উপায় হলো মধু খাওয়া। মধু দেহের অতিরিক্ত জমানো চর্বিকে রক্ত চলাচলে পাঠিয়ে শক্তি উত্পাদন করে, যা ব্যবহূত হয় দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে। এ ধরনের চিকিত্সায় এক চামচ টাটকা মধুর সঙ্গে আধা চামচ কাচা লেবুর রস আধা গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে প্রতিদিন কয়েকবার খেতে হবে। ৩। বাধাকপি বাধাকপিকে ওজন কমানোর আরেকটি কার্যকর উপায় হিসেবে ধরা হয়। বাধাকপি মিষ্টি ও শর্করাজাতীয় খাবারকে চর্বিতে রূপান্তর করতে বাধা দেয়। এ জন্য বাধাকপি খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে ওজন কমাতে। এটিকে কাচা অথবা রান্না করেও খাওয়া যায়। ৪। সুপ অথবা সালাদ ভারী খাবারের আগে সুপ অথবা সালাদ খান। তবে সুপ ও সালাদ যেন মেওনেজ ও ক্রিম ছাড়া তৈরি হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। প্রচুর সালাদ খাবেন, সালাদের সাথে ভিনেগার মিশিয়ে নেবেন। সালাদে কোনো মাছ বা মাংসের টুকরো মেশাবেন না। বরং কিছু মসলা যোগ করতে পারেন। স্বাস্থ্য সম্মত সালাদ আপনার ওজন হ্রাসে সহায়ক। ৫। ১ কাপ শসা দিনে দুই বেলা দুপুরে আর রাতে অবশ্যই এক কাপ করে শসার সালাদ খান আপনার নিয়মিত খাবারের সাথে। যাদের শসায় গ্যাসের সমস্যা হয়, তারা টমেটো-গাজর-বিট-কাচা পেপে ইত্যাদি যে কোনটি বেছে নিতে পারেন। ৬। ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি তাজা ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি হলো কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য, তাই যাদের ওজন বেশি তাদের বেশি করে এগুলো খাওয়া উচিত। এ খাবারগুলোতে মাইক্রোনিউট্রিয় েন্ট ও ফাইবার বেশি থাকার কারণে তা কোলেস্টেরল ও পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। যে কোনও এক বেলার নিয়মিত খাবারকে প্রতিস্থাপন করুন ফল দিয়ে। তবে সকালের নয়। লাঞ্চ, ডিনার বা বিকালের নাস্তার বদলে খান ফল বা ফলের সালাদ। রাতের বেলা সবজির তরকারি-মাছ মাংস ডিম যেটাই খাওয়া হোক না কেন, সেটা রাতের বেলা খাওয়া বাদ দিন গরমের দিনে। ভাত রুটি যাই খাওয়া হোক না কেন, সাথে নিন সবজি ও ডাল। তবে আলুকে কম খান। খেতে হলে ভাজি না খেয়ে ভর্তা খান অবশ্যই। ৭। সবুজ চা (গ্রিন টি) সবুজ চা বা গ্রিন টি ওজন কমাতে খুবই সাহায্য করে। এর প্রতিটি দানায় রয়েছে মানুষের শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক পলিফেনল ও কোরোজেনিক এসিড। দৈনিক মাত্র ২ থেকে ৩ কাপ সবুজ চা পান করে বছরে ১৫ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব। অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে এর কোন জুড়ি নেই। মেটাবোলিজমের হার বাড়িয়ে বাড়তি মেদ জমতেও দেয় না। ৮। লেবু চা যাদের বারবার যা খাওয়ার অভ্যাস, এই গরমে তারা দুধ চা বাদ দিয়ে লেবু চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। গরমে লেবু চা আপনাকে সতেজ থাকতে সাহায্য করবে তো অবশ্যই, সাথে দুধ না খাবার ফলে ক্যালোরিরও কম গ্রহণ করা হবে। লেবু চায়ে চিনিও লাগে কম। যারা দিনে ২/১ বার চা খান, তাদের দুধটা চলতে পারে। তবে কনডেনসড মিল্ক বাদ দিয়ে গরুর দুধ খান, নিদেন পক্ষে গুড়া দুধ। কফিতে ক্রিম খাওয়াটা ছেড়ে দিন। ৯। লেবু-মধু পানীয় সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস হালকা বা কুসুম গরম পানির সঙ্গে দুই চা চামচ লেবুর রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। এর কিছুক্ষণ পর সকালের নাশতা খেতে পারেন। লেবু-মধু পানীয় ওজন কমাতে অব্যর্থ পদ্ধতি। ১০। প্রচুর পানি প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন। ছয় থেকে আট গ্লাস। প্রচুর পানি পানে শরীর থেকে দূষিত চর্বি জাতীয় পদার্থ বের হয়ে যায়। খাবার সহজে হজম হয়। ফলে দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগ পায় না। খাওয়ার আগে এক থেকে দুই গ্লাস বরফ শীতল পানি পান করুন, এতে দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে আপনার পেট ভরার অনুভুতি আসবে। অল্প খাবার খেয়েই তৃপ্তি চলে আসবে শরীর ও মনে। ১১। প্রোটিন প্রোটিন জাতীয় খাবার প্রতি বেলাতেই কিছু না কিছু খেতে হবে। এতে করে মেটাবোলিজমের হার বেড়ে যায়। আমিষ (প্রোটিন) সমৃদ্ধ খাবার যেমন-মাছ, ডাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খান। মাছ খান সপ্তাহে অন্তত ৫দিন। কারণ মাছ খাওয়ার দরুন লেপ্টিন নামক হরমোন এর লেভেল কমে যায়। লেপ্টিন হরমোন বেশি থাকলে মেদ বাড়ার প্রবণতা থাকে। বেশি করে মাছ খান সামুদ্রিক মাছ। সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড মেদ বৃদ্ধিতে দায়ী চর্বিকে পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তার নাম ‘পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। ১২। ডিম খান ডায়েট করলে কি ডিম খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে? না বরং সকালে ডিম খাওয়া ওজন কমাতে সহায়ক। তবে এই গরমে ডিম পোচ বা ভাজি না খেয়ে খান সিদ্ধ ডিম। কারণ তাতে তেল কম খাওয়া হবে, অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর হবে খাওয়া। ১৩। পরোটা- রুটি- পাউরুটি পরোটা তেল বা ঘিয়ে না ভেজে তাওয়ায় শুকনো করে সেকে নিন রুটির মতন, ক্যালোরি কমে অর্ধেক হয়ে যাবে। ময়দার রুটি না খেয়ে আটার রুটি খান, সম্ভব হলে লাল আটা। আর মাখন বা জেলি দিয়ে ব্রেড না খেয়ে, ভাজি বা দুধ দিয়ে খান। এত সামান্য একটা ব্যাপার, কিন্তু কত ক্যালোরি যে বাচবে কল্পনাই করতে পারবেন না। ১৪। স্টার্চ উচ্চ শর্করাসমৃদ্ধ খাদ্য, যেমন—চাল, আলু অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেতে হবে, আর গম (আটা) খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। স্টার্চ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। রিফাইন্ড ময়দা, সাদা চাল, আলু এগুলো এড়িয়ে চলুন। ব্রাউন আটা খেতে পারেন। কার্বোহাইড্রেট বাদ দেয়া যাবে না। কার্বোহাইড্রেট এর চাহিদা পূরণ করবেন শাকসবজি, ডাল, ব্রাউন আটা এগুলো থেকে। ১৫। আয়রন আয়রন এর অভাব হলে অক্সিজেনের অভাব হয়। তখন মেটাবোলিজমের হার-ও কমে যায়। এজন্য আয়রন খাওয়া খুব-ই জরুরী। কচু শাকে, কলায় প্রচুর আয়রন আছে। ১৬। দুধ ও দই জাতীয় খাবার দুধ এবং টক দইজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। এতে যে ক্যালসিয়াম থাকে, তা ফ্যাট বার্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পনির, মাখন, চিনি —এগুলো পরিহার করতে হবে। কারণ, এগুলো উচ্চ চর্বিযুক্ত। যখন আম দিয়ে দুধ ভাত খাবেন, তখন চিনিকে পরিহার করুন। আম তো এমনিতেই মিষ্টি, চিনি দেবার দরকার কি? তাছাড়া দুধটাও প্রাকৃতিক ভাবে অনেকটাই মিষ্টি হয়ে থাকে। আম এবং দুধের প্রাকৃতিক মিষ্টি। স্বাদ আরও একটু বাড়াতে এক চিমটি লবণ দিয়ে দিন। স্বাদ এবং মিষ্টি ২টাই বহুগুণ বেড়ে যাবে। ১৭) বাদাম ও অলিভ অয়েল প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখুন কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কুমড়ার বিচি, শিমের বিচি, কিডনি বিন ও জলপাইয়ের তেল। বাদাম ও দানাজাতীয় খাবার থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তাকে বলা হয় ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। এই ফ্যাট রক্ত থেকে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। রেগুলার সালাদের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে আপনি যেমন সালাদের গুণকে বাড়িয়ে নিতে পারেন কয়েক গুণ, তেমনি ওজন টাও রাখতে পারেন নিয়ন্ত্রণে। প্রতি সপ্তাহের আপনার ডায়েট চার্টটি যেমন হতে পারেঃ সম্পূর্ণরূপে অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় বর্জন করুন। অবশ্যই দৈনিক ৩-৭ লিটার পানি পান করতে হবে। লেবু পানি, সোডা পানি, কফি, চা ইত্যাদি পানীয় পান করতে পারবেন তবে ক্রিম, ক্রিমজাতীয় খাবার ও চিনি বর্জন করতে হবে। সকাল : দুধ ছাড়া চা বা কফি, দুটো আটার রুটি, একবাটি সবজি সিদ্ধ, এক বাটি কাচা শসা। শসা ওজন কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। দুপুর : ৫০-৭০ গ্রাম চালের ভাত। মাছ বা মুরগির ঝোল এক বাটি। এক বাটি সবজি ও শাক, শসার সালাদ, এক বাটি ডাল এবং ২৫০ গ্রাম টক দই। বিকাল : দুধ ছাড়া চা বা কফি, মুড়ি বা বিস্কুট দুটি। রাত : আটার রুটি তিনটা, এক বাটি সবুজ তরকারি, এক বাটি ডাল, টকদই দিয়ে এক বাটি সালাদ এবং মাখন তোলা দুধ।

2874 views

আপনি শরীর কমাতে এগুলো অনুসরণ করতে পারেন। বাড়তি ওজন  আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ওজন কমান প্রাকৃতিক নিয়মে। এ নিয়ম স্বাস্থ্যসম্মত ও ঝুঁকিবিহীন। কয়েকটি অকার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে ওজন কমান আর ঝুঁকিমুক্ত থাকুন বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে।


++ তাজা ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি হলো কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য, তাই যাদের ওজন বেশি তাদের বেশি করে এগুলো খাওয়া উচিত।


++ অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করতে হবে। কারণ, লবণ শরীরের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।


++ দুধযুক্ত খাবার, যেমন :পনির, মাখন—এগুলো পরিহার করতে হবে। কারণ, এগুলো উচ্চ চর্বিযুক্ত। সঙ্গে মাংস ও আমিষজাতীয় খাবারও নির্দিষ্ট পরিমাণে খেতে হবে।


++ উচ্চ শর্করাসমৃদ্ধ খাদ্য, যেমন—চাল, আলু অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেতে হবে, আর গম (আটা) খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।


++ মসলাজাতীয় খাবার, যেমন :আদা, দারুচিনি, কালো মরিচ এগুলো প্রতিদিনের খাবারে রাখতে হবে। মসলাজাতীয় খাবার হলো ওজন কমানোর কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি।


++ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ওজন কমানোর আরেকটি ভালো উপায় হলো মধু খাওয়া। মধু দেহের অতিরিক্ত জমানো চর্বিকে রক্ত চলাচলে পাঠিয়ে শক্তি উত্পাদন করে, যা ব্যবহূত হয় দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে। মধু খাওয়া প্রথমে শুরু করতে পারেন অল্প পরিমাণে, যেমন—এক চামচ বা ১০০ গ্রাম, যা হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে এর সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন।


++ যারা পথ্য নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে চলেন বা দিনের পর দিন উপবাস করেন ওজন কমানোর জন্য, তাদের জন্য মধু ও লেবুর রস খুবই উপকার

এবং প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা ব্যায়ম করুন।

2874 views

Related Questions