2 Answers
@ছত্রাক: অঙ্গজ জনন:
যেকোনো ছত্রাকের অঙ্গজ জনন প্রক্রিয়ায় তার মাইসেলিয়াম থেকে নতুন ছত্রাকের উৎপত্তি হয়।
হাইফার কোষগুলো ভেঙে গিয়ে প্রত্যেকটা কোষ নতুন হাইফা তৈরি করতে পারে। আবার অনেক সময় কুঁড়ি বা bud তৈরি হয়। কুঁড়ি তৈরির সময় একটা কোষ থেকে বাড়তি অংশ তৈরি হয়। এরপর নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। দুইটি নিউক্লিয়াসের একটি সেই বাড়তি অংশে প্রবেশ করে এবং নতুন কোষ গঠন করে। এরা স্ক্লেরোশিয়াম নামক একটা শক্ত অংশ গঠন করতে পারে। হাইফাগুলো একসাথে মিলে চারপাশে একটা কালচে শক্ত আবরণ তৈরি করে। সেটাকে বলা হয় স্ক্লেরোশিয়াম।
অযৌন জনন:
অযৌন জননে স্বাভাবিকভাবেই কোনো গ্যামেট তৈরি হয় না। তাই কোনো জাইগোটও পাওয়া যায় না। ছত্রাকগুলো যখন গ্যামেট তৈরি না করে সরাসরি স্পোর তৈরি করে তখন সেই প্রক্রিয়াকে আমরা বলে থাকি অযৌন জনন।
@শৈবাল: আমার জানা ulothrix নামক শৈবালের বংশবৃদ্ধি আলোচনা করা হল:
#অঙ্গজ জনন:
প্রধানত খন্ডায়নের মাধ্যমে এরা নতুন শৈবাল গঠন করে। সুতার মতন দেহ কয়েকটা খন্ডে ভাগ হয়ে যায়। প্রত্যেকটা খন্ড নতুন শৈবালে পরিণত হয়।
এছাড়া কোষগুলো সঞ্চয় করে পুরু প্রাচীর যুক্ত অ্যাকাইনিটি তৈরি করে। অনুকূল পরিবেশে এই অ্যাকাইনিটি থেকে পরবর্তীতে নতুন শৈবাল উৎপন্ন হয়।
#অযৌন জনন প্রক্রিয়া:
Ulothrix এর অযৌন জননে হ্যাপ্লয়েড স্পোর তৈরি হয়। হ্যাপ্লয়েড স্পোরের কারণ হল যে ulothrix এর দেহ হ্যাপ্লয়েড। স্পোর তৈরির সময় মাইটোসিস কোষ বিভাজন হয় । ফলে স্পোর গুলোও হ্যাপ্লয়েড হয়ে থাকে।
অযৌন জননের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই স্পোরাঞ্জিয়াম, ভেসিকল, স্পোর। Ulothrix এর স্পোর গুলো হ্যাপ্লয়েড এবং চারটি ফ্ল্যাজেলা যুক্ত। স্পোরাঞ্জিয়াম থেকে মুক্ত হয়ে স্পোর গুলো সাঁতার কাটতে থাকে। যেহেতু এদের ফ্ল্যাজেলা আছে, তাই তারা সহজেই চলাচল করতে পারে। চলাচল করতে পারে তাই এদেরকে জুস্পোর বলা হয়। জুস্পোর তৈরি হওয়ার কারণে স্পোরাঞ্জিয়ামকে বলা হয় জুস্পোরাঞ্জিয়াম। এই স্পোরগুলো কোনো একটা অবলম্বন আঁকড়ে ধরে। কোষের যে দিকে ফ্ল্যাজেলা থাকে সেদিক দিয়ে অবলম্বন আঁকড়ে ধরে। এরপর ধীরে ধীরে কোষ বিভাজন ঘটায় এবং পূর্ণাঙ্গ শৈবালে পরিণত হয়। সাধারণত পরিণত হওয়ার পর তারা অবলম্বন ছেড়ে দেয়।
#যৌন জনন প্রক্রিয়া:
একটি শৈবাল দেহ থেকে পুং গ্যামেট নির্গত হয়। অপর শৈবাল থেকে স্ত্রী গ্যামেট নির্গত হয়। এরা আইসোগ্যামাস এবং হেটারোথ্যালিক। গ্যামেটেঞ্জিয়াম থেকে গ্যামেট নির্গত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। জাইগোট প্রচুর পরিমাণে খাদ্য সঞ্চয় করে এবং রেস্টিং স্টেজে চলে যায়। অর্থাৎ কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।
জাইগোটে কোষ বিভাজন ঘটে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ফলে স্পোর তৈরি হয়। কোষটাকে তখন বলা হয় জুস্পোরাঞ্জিয়াম এবং স্পোর গুলো হচ্ছে জুস্পোর। এই জুস্পোর গুলোর চারটি ফ্ল্যাজেলা থাকে। এই স্পোর থেকে নতুন শৈবাল তৈরি হয়।
শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই অঙ্গজ(কোষের বিভাজন, খন্ডায়ন, টিউবার সৃষ্টি), অযৌন এবং যৌণ উপায়ে বংশবিস্তার করে। বিস্তারিত জানতে চাইলে ইন্টারমিডয়েট এর উদ্ভিবিজ্ঞান বই এর পঞ্চম অধ্যায় টা পড়েন।