2 Answers

সকল ধর্মের নারী পুরুষরাই যৌনক্রিয়া করে, তাই সকল ধর্মের মানুষের পরিবারেই শিশু জন্মগ্রহণ করবে, এটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ সকল শিশুকেই মুসলিম করে দুনিয়াতে পাঠায়। আল্লাহ যদি কোনো শিশুকে হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান পরিবারে পাঠায়, তার মানে এই নয় যে, সে হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। বরং সে মুসলিম হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, কিন্তু তার পরিবার হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। শিশুরা হলো অনুকরণপ্রিয়। কোনো শিশু যদি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করার পর তার মা-বাবাকে সৃষ্টির পূজা করতে দেখে, তখন সে অনুকরণ করে সেটাই শিখে নেয়। ফলে বড় হয়ে ঐ শিশু তার মা-বাবার ধর্ম বা বাপ-দাদার ধর্ম অনুকরণ করে হিন্দু ধর্মের অনুসারী হয়ে যায়। তবে আল্লাহ পৃথিবীর প্রত‍্যেকটি মানুষের মনেই জীবনে একবার হলেও এই বোধটুকু দেয় যে, 'নিঃসন্দেহে স্রষ্টার নিকট গ্রহণযোগ‍্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম'। অন‍্য ধর্মের অনেক মানুষই এই সত‍্য বোধটুকু বুঝতে পেরে বাপ-দাদার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে ইসলাম কবুল করে নেয়। আর বাকিরা এই সত‍্য বোধটুকু বুঝার পরও ইসলাম ধর্মের প্রতি হিংসাপরায়ণ হয়ে বা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অহঙ্কারবশত বাপ-দাদার ধর্মকে ছাড়তে পারে না, ফলে তারা ইসলাম কবুল থেকে বিরত থাকে। তাই বাপ-দাদার ধর্ম যাই হোক না কেনো, প্রত‍্যেক মানুষের উচিত 'নিঃসন্দেহে স্রষ্টার নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ‍্য ও মনোনীত ধর্মঃ ইসলাম' কে কবুল করে নেওয়া। (সূরাঃ আল-ইমরান, আয়াত-১৯)। ইসলাম যে একমাত্র সত‍্য ধর্ম, এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলোঃ পৃথিবীর সকল ধর্মগ্রন্থ বিকৃত হলেও পবিত্র কুরআন কোনোদিনও বিকৃত হয় নি আর হবেও না। কারণ, এর হেফাজতকারী স্বয়ং আল্লাহ নিজে। ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক একমাত্র আল্লাহ, তাই এই ধর্ম শান্ত নীতিতে বিশ্বাসী, শান্তির ধর্ম। ধন‍্যবাদ।

2997 views

বিভিন্ন ধর্মে মানুষ জন্মগ্রহণ করে না। প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ইসলাম ধর্মের উপর। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তার মা-বাপ তাকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কানকাটা দেখতে পাও? বরং মানুষেরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাতে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে। (রেফারেন্স! সহীহ বুখারীঃ ১৩৫৮, সহীহ মুসলিমঃ ২৬৫৮) আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ কাজেই দ্বীনের প্রতি তোমার মুখমন্ডল নিবদ্ধ কর একনিষ্ঠভাবে। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতি তিনি মানুষকে দিয়েছেন, আল্লাহর সৃষ্টি কার্যে কোন পরিবর্তন নেই, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (আর-রুমঃ ৩০) এ ফিতরাত ও দীনের আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কোন পরিবর্তন নেই। এর বিপরীত কোন নির্দেশ আসবে না। কিয়ামত পর্যন্ত সকলকে ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার নির্দেশ বহাল থাকবে। এটাই হল মজবুত দীন। এ দীন দিয়েই আল্লাহ তায়ালা সকল নাবী-রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন, এ দীনের অনুসরণ করলেই তা আল্লাহ তায়ালার কাছে পৌঁছে দিবে। অর্থাৎ তুমি নিজেকে আল্লাহ তায়ালার দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখ তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে। অন্তর এবং শরীর একমাত্র আল্লাহ তায়ালার দিকেই অভিমুখী হবে, তার দিকেই মুতাওজ্জুহ হবে। সুতরাং পৃথিবীর বুকে দীন একটাই আর তা হলো ইসলাম।

2997 views

Related Questions