আমার ঘুম কিভাবে কমানো যায়?
2 Answers
আসলে এর জন্যে কোনো পরামর্শ নিজের উপর এ অনেকটা নির্ভর করে।তবে আপনি চাইলে এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন।আপনার যখন ই চোখে ঘুম আসবে ঠিক তখন ই ঘুমাতে যাবেন এবং ছয় বা সাত ঘন্টা ঘুমাবেন।এর বেশি ঘুমাবেন না।আর যদি টের না পান তবে আপনার ফোনটিতে এলার্ম সেট করে রাখতে পারেন।একটা কথা মনে রাখবেন যখন আপনার ঘুম অতিরিক্ত হয়ে যাবে তখন আপনি জাগতে চাইলেও জাগতে ইচ্ছা হবেনা।তখন মনে হবে এই মাত্র মনে হয় ঘুমাইলাম।
বিভিন্ন নিয়ম কানুন আয়ত্ত করে অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন: ১) ঘুম না আসা পর্যন্ত বিছানায় না যাওয়া। ২) বেডরুমকে কেবলমাত্র ঘুম ও সঙ্গমের জন্যই ব্যবহার করা। ৩) রাতের বেলা ঘুমানোর সময় ছাড়া যখন তখন যেখানে সেখানে শুয়ে বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস যথাসম্ভব ত্যাগ করা। ৪) বিছানায় যাওয়ার পর ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসলে জোর করে শুয়ে না থেকে বরং বিছানা ও বেডরুম ত্যাগ করে পুনরায় ঘুম না আসা পর্যন্ত বেডরুমে না ঢোকা।যারা জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করেন তাদের পরবর্তীতে ঘুমানোর সময় সমস্যা আরও তীব্রতা লাভ করে। ৫) প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠা তাতে রাতে যে পরিমাণই ঘুম হয়ে থাকুক না কেন। ৬) সন্ধ্যার পর স্নায়ু উত্তেজক খাবার বা পানীয় যেমন চা.কফি,কোলা,চকোলেট,এনার্জি ড্রিংকস, ধূমপান সেবন না করা। ৭) সকালে বা দিনের অন্য সময় নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা। ৮) টিভি দেখার সময় সোফায় গা না এলিয়ে বরং চেয়ার বা মেঝেতে পিঠ সোজা করে বসে দেখা। ৯) ঘুমানোর সময় ঘরের সকল লাইট বন্ধ রাখা। ১০) বেডরুমের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা যথাসম্ভব স্বস্তিকর অবস্থায় রাখা। ১১) সন্ধ্যার পর থেকে বিশেষত ঘুমানোর পূর্বে কোন কারণে উত্তেজিত না হওয়া বা জটিল কোন কিছু চিন্তা না করা।বিছানায় শুয়ে টিভি দেখা,ফেসবুক চালানো বা চ্যাট করা,মোবাইলে কথা বলা, জীবনের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করা,ভবিষ্যত পরিকল্পনা করা ইত্যাদি বিষয় ত্যাগ করা। ১২) কোন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন না করা। *অতিরিক্ত ঘুমানো অনেক ক্ষেত্রেই নানাবিধ কারণে হয়ে থাকে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।অতিরিক্ত ঘুমানোর উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হলো- ১.হাইপোথাইরয়েডিজম (HYPOTHYROIDISM) ২.লৌহ ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা (IRON DEFICIENCY ANAEMIA) ৩.স্থূলতা (OBESITY) ৪.নারকোলেপসি (NARCOLEPSY) ব্রেনের বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ: পারকিনসন্স রোগ (এ রোগে শরীর বিশেষত হাত-পা কাঁপে), অ্যালজেইমার্স রোগ (এ রোগে স্মৃতি হারাতে থাকে), এনকেফালাইটিস (ব্রেনের প্রদাহজনিত রোগ), হাইড্রোসেফালাস (ব্রেনে পানি জমা), ব্রেন টিউমার সহ ব্রেনের নানাবিধ অসুস্থতায় একজন মানুষ অতিরিক্ত ঘুমাতে পারেন।মাথায় আঘাত (Head Injury) পাওয়ার পরবর্তী ৬মাস থেকে ১৮মাসের মধ্যে অতিরিক্ত ঘুমানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। ৫. বিষণ্নতা (DEPRESSION) ৬. চিকিৎসারত মৃগী রোগী ৭. দীর্ঘমেয়াদী অবসন্নতা (CHRONIC FATIGUE SYNDROME) ৮. বিভিন্ন ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ৯. মাদকাসক্তি ১০. জেনেটিক *অতিরিক্ত ঘুমানো মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণে অকাল মৃত্যু,হার্টের অসুখ,ব্রেনের কার্যকারিতা হ্রাস,স্থূলতা বা মুটিয়ে যাওয়া,ডায়াবেটিস,বিষণ্নতা,মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথা,মনোযোগের অভাব ও কর্মদক্ষতা হ্রাস সহ অনেক রকম জটিল সমস্যা দেখা দেয়। সর্বোপরি এককথায় বলা যায় অতিরিক্ত ঘুমের প্রতিকারে এর সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় ও কারণ অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধন্যবাদ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy