2 Answers
হাত পাতা ব্যতীত আর যদি কোন উপায় না থাকে এক্ষেত্রে মেয়ের বিবাহের যৌতুক প্রদানের জন্য যদি কেউ ভিক্ষা করে তাহলে তাকে ভিক্ষা দেয়া যাবে। যদিও মহানবী (সাঃ) ভিক্ষা করাকে হারাম তথা অবৈধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এর ভয়াবহ পরিণামের কথাও স্বরণ করিয়ে দিয়েছেন। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ কোনো ধনী, শক্তিশালী ও সুস্থ ব্যক্তির জন্য দান- খয়রাত গ্রহণ করা জায়েজ নয়। অবশ্য যারা বাস্তবেই কর্মক্ষমতাহীন ও অভাবী তাদের পূনর্বাসনের লক্ষ্যে রাসূল (সাঃ) তাদের জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ বলে ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেন, তিন ব্যক্তি ছাড়া অন্যেদের জন্য ভিক্ষা করা বা সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়। (১) যে ব্যক্তি যামিন হয়েছে তার জন্য তা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত অন্যের সাহায্য চাওয়া হালাল, অতঃপর সে তা পরিত্যাগ করবে। (২) যদি কোন ব্যক্তির ধন-সম্পদ দুর্যোগ - দুর্বিপাকে বিনষ্ট হয়, তবে সে ব্যক্তির জন্য এ বিপদ হতে নিষ্কৃতি লাভ না করা পর্যন্ত যান্ঞা করা হালাল। (৩) ঐ ব্যক্তি যে ধনী হওয়া সত্বেও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে অভাবগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। প্রমাণ স্বরূপ যদি তার স্থানীয় তিনজন ব্যক্তি বলে যে, অমুক ব্যক্তিটি সর্বহারা হয়ে গিয়াছে তখন সেই ব্যক্তির জন্য চাওয়া ভিক্ষা করা ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ-যতক্ষণ না সে জীবন ধারণে স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী হয়। উপরোক্ত তিন শ্রেনীর লোক ব্যতীত অন্যদের জন্য ভিক্ষা করা হারাম। যদি কেউ করে, তবে সে হারাম খায়। অথবা যে অবস্থায় যাঞ্ছা করা বৈধ। যায়েদ ইবনে উকবা আল-ফাযারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ভিক্ষাবৃত্তি হল ক্ষতবিক্ষতকারী জিনিস-যার সাহায্যে কোন ব্যক্তি নিজের মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করে। অতএব যার ইচ্ছা সে নিজের মানসম্মান বজায় রাখুক এবং যার ইচ্ছা নিজের লজ্জা-শরম ত্যাগ করুক। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট কিছু যান্ঞা করা বৈধ, অথবা অনন্যোপায় অবস্থায় যান্ঞা করা বৈধ। (রেফারেন্সঃ সূনান আবু দাউদ হাদিস নম্বরঃ ১৬৪০, সূনান আবু দাউদ হাদিস নম্বরঃ ১৬৩৯, সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৮১)
আপনার প্রশ্নে দুটি প্রধান শব্দ হলো যৌতুক ও ভিক্ষাবৃত্তি। তাই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রকৃতপক্ষে দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ১। ইসলামে যৌতুক জায়েজ কি'না? ২। ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তি জায়েজ কি'না? যৌতুক হলো বিবাহে কন্যাপক্ষের কাছ থেকে বরপক্ষের বেআইনিভাবে বা অন্যায়ভাবে আদায় করা অর্থ বা সম্পদ। হিন্দু সমাজে প্রথমে যৌতুকের প্রচলন ঘটে এবং পরবর্তীতে মুসলিম সমাজে এটির অনুপ্রবেশ ঘটে। মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের রীতি-নীতি গ্রহণ বা অন্যায়মূলক আচরণকে ইসলাম সমর্থন করে না। দেশীয় আইনে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া যেমন শাস্তিমূলক অপরাধ, ঠিক তেমনি ইসলামও যৌতুক দেওয়া-নেওয়াকে বয়কট করে। ইসলামে কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে অর্থ বা সম্পদ দিতে বাধ্য নয়। বরং বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে তথা স্বামী স্ত্রীকে মোহরানা দিয়ে ঘরে তুলতে বাধ্য। সুতরাং, যৌতুক দেওয়া-নেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়। আরেকদিকে ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তিকে সমর্থন করে না। তবে যারা অক্ষম ভিক্ষুক, যেমনঃ পঙ্গু (চলতে পারে না), অন্ধ (চোখে দেখতে পায় না), বোবা (কথা বলতে পারে না), বয়রা (কানে শুনতে পায় না), বৃদ্ধ (উপার্জন করার ক্ষমতা নেই), শিশু (অসহায়, এতিম, মিসকিন), তাদের ভিক্ষা দেওয়া বা সাহায্য করা যেতে পারে। কিন্তু সক্ষম ব্যক্তিদের (যাদের উপার্জন করার ক্ষমতা রয়েছে), তাদের ভিক্ষা দেওয়া জায়েজ নয়। কারণ, তারা কর্মক্ষম থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে কাজ না করে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। সুতরাং, যেহেতু ইসলামে যৌতুক দেওয়া-নেওয়া জায়েজ নয়, সেহেতু কোনো অভিভাবক বরপক্ষকে যৌতুক প্রদান করতে পারবে না বা কোনো অভিভাবক কন্যাপক্ষ থেকে যৌতুক নিতে পারবে না। এবং যেহেতু ইসলামে সক্ষম ব্যক্তিদের ভিক্ষা করা বা ভিক্ষা দেওয়া জায়েজ নয়, সেহেতু কোনো সক্ষম ব্যক্তি ভিক্ষা করতে পারবে না বা কোনো সক্ষম ব্যক্তিকে ভিক্ষা দেওয়া যাবে না। তবে বিপদে বা সমস্যায় পড়লে সক্ষম বা অক্ষম যে কাউকে সাহায্য করা যেতে পারে। যৌতুককে না বলুন। কারণ, যৌতুকের জন্য সমাজ কলুষিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে, শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। একজন বাবা কষ্ট করে তার মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করে কেনো আরো কষ্ট করে যৌতুকের মাধ্যমে বিয়ে দিতে হবে? সমাজের ছেলেরা, তোমরা বিয়ের সময় কন্যাপক্ষের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে যৌতুক না নিয়ে, বরং স্ত্রীকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে সম্মানের সহিত ঘরে তুলে নাও (বিশেষ অনুরোধ)। ধন্যবাদ।