2 Answers
একেক জনের মানসিক চিন্তা-ভাবনা ও ব্যাক্তিত্ব একেক রকম। এটি নির্ভর করে মূলত মস্তিষ্কের উপর। সঠিক খাদ্যাভাস ও কিছু বিষয় মেনে চললে মস্তিষ্ক ভালো রাখা যায় দীর্ঘদিন। খাদ্য তালিকায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার যেমন রসুন, আঙ্গুর, ডালিম রাখুন। এছাড়া বেশি বেশি ফলমূল, শাকসবজি ও পানি পান করুন। নিয়মিত এসব খাবার খেলে মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার পরিহার করুন। মাছের ওমেগা ফ্যাটি-৩ অ্যাসিড মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সপ্তাহে কমপক্ষে দুইদিন মাছ খান। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে কোষ তৈরি কমে যায়। কিন্তু শরীর চর্চা করলে দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় ফলে মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরি হয় একইসঙ্গে মস্তিষ্ক ভালো রাখে। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে নিয়মিত হাটুন, সাতার কাটুন, সাইকেল চালান। পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম মানুষের মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সহয়তা করে। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমান তাহলে মস্তিষ্ক ভালো থাকবে। সারাদিনের কাজ মানুষের মস্তিষ্কে যত চাপের সৃষ্টি করে, ঘুমানোর ফলে মস্তিষ্কের সেই চাপ দূর হয়। দৈনন্দিন কাজে একঘেয়েমি চলে আসলে মস্তিষ্ক ঠিক ভালো মতো কাজ করে না। মানসিক চাপের ফলে স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে। একঘেয়েমি দূর করতে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট মেডিটেশন করুন। নিয়মিত মেডিটেশন মস্তিষ্ক সচল রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া বন্ধু-বান্ধবী, সহকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলুন।
আমাদের সারা শরীরের সাথেই সংযোগ আছে মস্তিষ্কের। শরীরের স্নায়ুতন্ত্র থেকে আসা বিভিন্ন সিগন্যাল মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এমন কিছু অভ্যাস আছে যা শরীরের পাশাপাশি আপনার মনকেও ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
হাসুন
কারণে-অকারণে হাসি আমাদের মস্তিষ্ককে তরতাজা রাখে। খুব দুশ্চিন্তায় থাকা অবস্থাতেও জোর করে মুখে হাসি টেনে আনলে মনের ওপর থেকে অনেকটা চাপ সরে যায়। শুধুমাত্র মুখটা হাসি হাসি করে রাখলেই চলবে। এউ ছোট্ট ব্যায়ামটা মনের মাঝ থেকে কমিয়ে দেবে স্ট্রেস।
ছড়িয়ে দিন দু-হাত
কিছু কিছু ভঙ্গিমা মনের মাঝে তৈরি করে শক্তির অনুভূতি। গবেষণায় দেখা যায়, শরীরকে ছড়িয়ে দেওয়ার এমন ভঙ্গিমা হরমোনের পরিমাণেও পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এতে সেই মানুষটি হয়ে ওঠে আরো আত্মবিশ্বাসী এবং ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক। দু-দিকে হাত ছড়িয়ে দেবার এই ভঙ্গিমা যদিও অনেকের কাছে পুরুষালী মনে হয়, কিন্তু এই ভঙ্গিমা নারীর মনেও শক্তি সঞ্চার করতে একইভাবে কার্যকরী।
ছোট্ট ঘুমে হয়ে উঠুন বুদ্ধিমান
অনেকেই আছেন যারা রাত্রেই কেবল ঘুমিয়ে থাকেন, সারাদিন আর ঘুমানোর ফুরসত পান না বা ঘুমাতে চান না। দিনের বেলায় ঘুমানোর ব্যাপারটাকে আলসেমি মনে করেন অনেক সময়ে। ছোট্ট একটু ঘুমানোর এই অভ্যাস কিন্তু মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। এই ঘুমে শুধু যে আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্ক একটু বিশ্রাম পায় তাই নয়, এর পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, শিক্ষা গ্রহণের ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায়।
বসুন ধ্যানের ভঙ্গিমায়
অনেকে মনে করেন ধ্যানের মাধ্যমে মনের প্রশান্তি আনার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি জটিল। এটা কিন্তু তেমন জটিল নয়। গবেষণায় দেখা গেছে শুধুমাত্র ধ্যানের ভঙ্গিমায় বসে গভীর নিশ্বাস নিলেও মনের অনেক উপকার হয়। সম্ভবত নির্দিষ্ট এই ভঙ্গিমা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কারণেই মস্তিষ্কের এমন উপকার হয়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy