1 Answers

মানুষের জীবনের অপরিহার্য একটা অংশ হলো পরিমিত ঘুম। অথচ বর্তমান সময়ে শত কাজের ভিড়ে ঘুমের সময়কে কমাতে কমাতে আমরা অনেকেই নিয়ে এসেছি প্রায় শুন্যের কোঠায়। নিদ্রাহীন রাত কাটাতে কাটাতে যখন দেখি আর শরীর চলছে না শুধু তখনই শরীরটাকে একটু ছুটি দেই। আবার ঘুম থেকে উঠে শুরু হয় আমাদের ব্যস্ত জীবন। এ তো গেল কম ঘুমের ব্যাপার। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমালেও একই অবস্থা হয় অর্থাৎ আমাদের স্বাস্থ্যর অবস্থা খারাপ হয়, কারণ বেশি ঘুমানো মানেই যে ভালো ঘুম হচ্ছে তা কিন্তু নয়! খাদ্যভ্যাস এবং ব্যায়ামের মতই ঘুমের অভ্যাসটাও আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয়। ঘুমের অনিয়ম করে শরীরের ওপর এই অত্যাচারের ফলে আমাদের চোখের আড়ালেই কত বড় যে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে অবগত নই আমরা অনেকেই। ছোটোখাটো অসুস্থতা তো বটেই, US Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এর গবেষকরা সম্প্রতি জানতে পেরেছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত বেশি বা কম ঘুমিয়ে কাটালে দীর্ঘস্থায়ী মারাত্মক সব রোগের আশঙ্কা থাকে। তাদের এই গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয় SLEEP জার্নালে। আমেরিকার ১৪ টি স্টেটের প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন CDC এর এই পরীক্ষায়। তাদের সবাই ছিলেন ৪৫ বছর বা এর চাইতেও বেশি বয়সী এবং এদের ঘুমের অভ্যাসের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। দেখা যায়, এদের মাঝে ৬৪ শতাংশ মানুষের ছিল ভালমত ঘুমের অভ্যাস অর্থাৎ দিনে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমান তারা। কিন্তু বাকিদের মাঝে দেখা যায় ঘুমের অনিয়ম এবং এই সংখ্যাও নেহায়ত কম নয়। “ঘুমের অনিয়ম এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের মাঝে যে সম্পর্ক তা বোঝানো যেতে পারে দুশ্চিন্তা এবং মুটিয়ে যাবার প্রবণতা থেকে,” বলেন এ গবেষণার সাথে জড়িত জ্যানেট বি ক্রফট। “দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন যেসব রোগী, ডাক্তারদের উচিৎ এসব রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য, শরীরের ওজন এবং সাথে সাথে ঘুমের অভ্যাসের ওপরেও লক্ষ্য রাখা”। গবেষকরা দেখেছেন যে, যেসব মানুষ ছয় ঘণ্টা বা তারও কম ঘুমায় নিয়মিত, তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, দুশ্চিন্তা এবং অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে। যারা দিনে দশ ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমান তাদেরও এই এই সমস্যা হতে পারে। তারা আরও দেখেন যে, এই জরিপে অংশ নেওয়া ৩১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের চাইতে কম ঘুমায় এবং ৪.১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমায়। “ঘুমের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সবারই দৈনিক সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য থাকা উচিৎ, কিন্তু যারা ইতোমধ্যেই দীর্ঘস্থায়ী কোনও রোগে ভুগছেন তাদের জন্য এটা আরও বেশি জরুরি,” বলেন আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিন এর প্রেসিডেন্ট ডক্টর সাফওয়ান বদর। ঘুমের মাঝে দম আটকে যাওয়া (আমরা যাকে বলি বোবায় ধরা) বা অনিদ্রা এ জাতীয় সমস্যাগুলো তাদের মাঝেই বেশি হতে দেখা যায় এবং তাদের ক্লান্তি বেশি হয়। এ কারনেই যারা ঘুম থেকে ওঠার পরেও অবসাদগ্রস্ত থাকেন তাদের উচিৎ এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা। আর ঘুমের অভ্যাসে সমস্যা থাকলে তা সারিয়ে তোলার মাধ্যম অনেক বড় এবং প্রাণঘাতি রোগ এড়িয়ে চলা সম্ভব হতে পারে। যাদের ঘুম কম হয় তাদের মাঝে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায় এবং এর সাথে দেখা যায় অতিরিক্ত ওজন এবং মানসিক রোগের প্রকোপ। যারা প্রয়োজনের চাইতে বেশি ঘুমান তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের মাত্রা আরও বেশি দেখা যায়।

5038 views

Related Questions