2 Answers
গ্রন্থস্বত্ব অর্থ হলো যে কোন বিষয় সম্পর্কিত আক্ষরিক লিখিত রচনার মালিকানা। যে মালিকানা উক্ত গ্রন্থ প্রকাশের অধিকার প্রদান করে। অতএব গ্রন্থস্বত্ব বলতে বুঝায় কোন বই বা রচনাকর্ম প্রকাশ করার অধিকার। প্রচলিত ভাষায় একে কপিরাইট বলে। অন্যের লেখা বই, গান ইত্যাদি নিজের নামের চালিয়ে দেয়া হলে কপিরাইট আইন ভঙ্গ করা হয়। অন্যের কোনকিছু নিজের নাম চালানো অবশ্যই নাজারেজ। এটি মিথ্যা ও প্রতারণার কাজ।
বিভিন্ন ধরণের সৃষ্টিধর্মী কাজ তথা শিল্প- সাহিত্য, সঙ্গীত ও অন্যান্য বিষয় অন্যকে পুনরায় প্রকাশ করতে না দেয়ার অধিকার একান্তভাবেই এর মূল ব্যক্তির বা স্রষ্টার। এ ধরণের অধিকারকেই বলে কপিরাইট, যাকে পুস্তকের ক্ষেত্রে বলা হয় গ্রন্থস্বত্ব। একদল আলিমের মতে, গ্রন্থস্বত্ব একটি বৈধ বিষয়। অন্যান্য বস্তুর মতোই এটিও ব্যক্তির মালিকানায় থাকতে পারে। লেখক স্বীয় গ্রন্থের মালিক, স্বত্বাধিকারী। নিজের বৈধ মালিকানাধীন বৈধ জিনিসপত্র যেমন বিক্রি করা জায়িয, তদ্রপ গ্রন্থস্বত্ব বিক্রি করাও বৈধ। নাজায়েয, হারাম বা নিদেনপক্ষে মাকরূহও নয়। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ এ গ্রন্থ প্রকাশ ও বাজারজাতকরণের অধিকার রাখে না। এমনটি করা নাজায়েয ও হারাম হবে। অধিকন্ত, তা চুরি ছিনতাই ও খেয়ানত বলে বিবেচিত হবে। কারণ, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, কোনো মুসলমানের সম্পত্তি তার পূর্ণ সম্মতি সন্তুষ্টি ছাড়া নেওয়া হালাল হবে না। (বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা, হাদীসঃ ১১৮৭৭)। নিম্নের হাদীস থেকেও গ্রন্থস্বত্ব সংরক্ষণ ও বেচাকেনা বৈধ হওয়ার দলীল গ্রহণ করা যায়, যে ব্যক্তি প্রথমে কোনো বস্তুর দিকে অগ্রসর হল, যার দিকে কোনো মুসলিম অগ্রসর হয়নি, তাহলে এটা তার। (আবূ দাউদ, আস- সুনান, হাদীসঃ ৩০৭৩, অধ্যায়, বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা, হাদীসঃ ১২১২২)।