ব্রেনের শক্তি বাড়ানোর কোন ব্যায়াম আছে কি?
4 Answers
ইন্টারনেটে ব্রেন গেমের নানা রকম ভিডিও দেখুন। দাবা খেলুন। তবে ভাল না লাগলেও শুধু স্মৃতিশক্তি বাড়াতে হবে বলেই ব্রেন গেম খেলব, দাবা খেলব এমনটা করার দরকার নেই।
তাছাড়া সাধারণ ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম শুধু যে ওজন কমায় তা নয়, ব্যায়াম মস্তিস্কের স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় রাখে,মস্তিস্কে রক্ত চলাচল নিশ্চিত করে এবং প্রাণবন্ত রাখে। ব্যায়ামের মাধ্যমে ব্রেন সেলগুলো আরও বিকশিত ও শক্তিশালী হয় এবং আন্তঃযোগাযোগ বাড়ে ও মস্তিষ্ককে ড্যামাজ হওয়া থেকে প্রতিহত করে। কারণ ব্যায়ামের সময় প্রোটিন বের হয় মস্তিষ্কের সেল থেকে যা নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর নামে পরিচিত। এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য গঠনে সাহায্য করে এবং ব্রেনকে রক্ষা করে। এছাড়া ব্যায়ামের সময় নার্ভ প্রকেটটিং কম্পাউন্ড বের হয়ে ব্রেনকে রক্ষা করে। hippocampus নামক ব্রেন এর একটি জায়গা আছে যা ব্যায়ামের সময় আকারে বড় হয়ে যায়। এর ফলে Alzheimer’s disease প্রতিহত করতে সাহায্য করে। এই রোগ হলে মানুষ স্মৃতি ভুলে যায়। তাই ব্যায়াম শুধু শরীর কেই নয় বরং মস্তিষ্ক কেও সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
মস্তিষ্কের ব্যায়াম
মনে রাখতে হবে, আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় – দর্শন, ঘ্রাণ, স্পর্শ, স্বাদ ও শ্রবণের সঙ্গে ব্রেনের বিভিন্ন অংশের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এদের কার্যকলাপের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সৃষ্টির ফলে স্বাভাবিক ব্রেন নিউট্রিয়েন্ট উৎপন্ন হবে, যা স্মৃতিশক্তিকে মজবুত করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি ব্রেনের বিভিন্ন কোষকেও শক্তিশালী করবে।
যেমন – সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার সময় ‘অনভ্যস্ত’ হাতটি ব্যবহার করে ব্রাশ করুন। ব্রেন কোষগুলি এতে সজাগ হবে।
স্নান করার সময় চোখ বন্ধ রাখুন। স্পর্শের দ্বারা সবান মাখুন, গায়ে জল ঢালুন, স্নান শেষ হলে তোয়ালে দিয়ে গা মুছুন।
চোখে না দেখেও কিছু কাজ স্পর্শের সাহায্যে করার অভ্যেস করলে ব্রেনে কটিকাল এলাকায় তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ধরুন পকেটে অনেকগুলো খুচরো পয়সা আছে। পকেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে স্পর্শের মাধ্যমে পয়সাগুলির আয়তন অনুভব করে গুনতে চেষ্টা করুন। এই ব্যয়াম গুলো করলে আপনার ব্রেন হবে:-
- স্মৃতিশক্তি,
- যুক্তিবোধ,
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা,
- গাণিতিক উৎকর্ষ,
- মনোযোগ,
- মানসিক অস্থিরতার উপশম,
-
মানসিক অবসাদ থেকে উত্তরণ হবে
মস্তিষ্কের দারুণ ৫ টি ব্যায়াম বাড়িয়ে দেবে আপনার স্মৃতিশক্তিঃ- ১) নিজে নিজে কথা বলুনঃ নিজে নিজে কথা বলা বা আপনমনে কথা বলার কাজটি খুব বেশি পাগলামি মনে হলেও এটি অনেক বেশি কার্যকরী। গবেষণায় দেখা যায় যারা আপনমনে কথা বলেন তাদের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা অন্যান্যদের বেশ কম। এমনকি নিজেকেই নিজে গল্প শোনানোর বিষয়টি স্মৃতিভ্রষ্টের সমস্যা দূর করে। ২) পাজল বা ওয়ার্ড গেম ধরণের খেলা খেলুনঃ গবেষণায় দেখা যায় যাদের নিয়মিত পাজল সমাধান, স্ক্রাবল, সুডোকো মেলানোর অভ্যাস রয়েছে তাদেড় মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। এছাড়াও তাদের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা জনিত সমস্যাও হয় না। তাই সময় পেলেই এইধরনের খেলা খেলে নিন। ৩) মেলোথেরাপিঃ মিউসিক থেরাপিকে সাধারণত মেলোথেরাপি বলা হয়। এই মেলোথেরাপির মাধ্যমে একদিকে মনোযোগ নির্দিষ্ট হওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। গবেষণায় দেখে গিয়েছে ক্লাসিক ধরণের গান মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় শিশু কিশোরদের মধ্যে। এবং এটি স্মৃতিশক্তি দুর্বলতাও কমিয়ে দেয় একেবারেই। ৪) বই পড়াঃ বই পড়া হচ্ছে মস্তিষ্কের সবচাইতে ভালো ব্যায়াম। যেধরণের বইই হোক না কেন বই পড়ার বিষয়টি মস্তিষ্কের নার্ভ সচল রাখতে সহায়তা করে। এমনকি খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন যাই হোক না কেন অবসর সময়ে তা পড়ে নিলে মস্তিষ্কের বেশ ভালো ব্যায়াম হয়। এতে করে স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়। ৫) নতুন ভাষা শেখাঃ নতুন একটি ভাষা শেখা এবং লেখার মাধ্যমে নিজের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ে তেমনই কমে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা। নতুন একটি ভাষা শেখা, বোঝা এবং প্রয়োগ করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়ে যা স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল হতে বাঁধা দেয়। সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়া টাইমস।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy