1 Answers

'মানবিক ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব প্রদান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সম্ভব নয়'- উক্তিটি যথার্থ।
নাগরিকতা অর্জনের দুটি মূল পদ্ধতি জন্মসূত্র ও অনুমোদনসূত্র ছাড়াও মানবিক কারণে নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ আছে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ভিন্নমত কিংবা জাতিগত কারণে বিপন্ন হয়ে কোনো ব্যক্তি যদি অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় নেয় তবে সেই রাষ্ট্র আবেদনের ভিত্তিতে তাকে প্রথমত বসবাসের সুযোগ এবং এক পর্যায়ে নাগরিকত্ব দিতে পারে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে মানবিক কারণে নাগরিকত্ব প্রদান সব সময় সম্ভব নয়। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশ। এ দেশ স্বল্প আয়তন, সীমিত অবকাঠামো ও নিম্ন মাথাপিছু আয়সহ অনেক সমস্যায় জর্জরিত। এ কারণে বাংলাদেশের পক্ষে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মানবিক কারণে বেশিসংখ্যক বিদেশিকে নাগরিকত্ব দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কিছু লোককে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে তা বাংলাদেশের চেয়ে অনগ্রসর দেশের বহু মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে। সে বোঝা সামলানো বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব হবে না। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ আটকেপড়া পাকিস্তানি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চাপ বহন করছে। নতুন করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এসে সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। অর্থনৈতিক ছাড়াও এ সমস্যার একটি নিরাপত্তাগত দিকও রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক জঙ্গি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু লোকের মধ্যে প্রাণঘাতী এইচআইভি ভাইরাসও ধরা পড়েছে। এছাড়া দেখা গেছে, অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অনেকে এলাকায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
সুতরাং মানবিক কারণে বিদেশিদের নাগরিকতা দেওয়া হলে জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। কাজেই সার্বিক আর্থ- সামাজিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের পক্ষে মানবিক কারণে ঢালাও নাগরিকত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।

5 views

Related Questions

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার তিন বছর ধরে ৭ শতাংশের ওপরে যা নিয়ে দেশের নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন মহল স্বাভাবিকভাবেই বেশ উচ্ছ্বসিত। এই উচ্ছ্বাসে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের হালনাগাদ একটি প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন অনুসারে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতির দেশ, এখন যে অবস্থানে আছে অস্ট্রিয়া । কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধির উচ্চ হারই শেষ কথা নয়, নয় একমাত্র অভীষ্ট। এটি অর্থনীতির আকার বা পরিমাণ নির্দেশ করে মাত্র। বরং নীতিনির্ধারক মহলের কাছে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির গুণগত দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি বিশ্বের বহু দেশেই গরিবি যথেষ্ট কমাতে পারেনি, পারেনি সমাজে আয়বৈষম্য কমাতে, বরং তা বাড়িয়েছে। আসলে গরিবি কমা বা আগের তুলনায় বেশি মানুষের উন্নততর জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া নির্ভর করে প্রবৃদ্ধির বণ্টনের ওপর। বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি এখনো সম্পদের সুসম বা ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে পারেনি, তা বিভিন্নভাবে সমাজে প্রতিফলিত হয়। (Translate into English)
1 Answers 6 Views