1 Answers

উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনীর মধ্যে নেতৃত্বের সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেন। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেন সামরিক অভ্যুত্থান ছাড়া চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাল্টা অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ নভেম্বর রাতে বঙ্গভবন থেকে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা সেনানিবাসে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থান শুরু হয়। ৩ নভেম্বর ভোররাতে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল নিয়ে খন্দকার মোশতাকের সাথে দেনদরবার চালাতে থাকেন। ৪ নভেম্বর তিনি এক ঘোষণায় বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি মোশতাকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তাকে পদোন্নতিসহ সেনাপ্রধান নিয়োগের জন্য। ক্ষমতার পালাবদলে মোশতাক শেষ পর্যন্ত ৫ নভেম্বর ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। মোশতাক ও জিয়াকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে খালেদ মোশাররফ রাষ্ট্রক্ষমতায় তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। ৩ থেকে ৬ নভেম্বর মাত্র চার দিন তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। ৭ নভেম্বর কর্নেল (অ.) আবু তাহেরের পাল্টা এক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে তাকে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের হত্যা করা হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর একজন বিগ্রেডিয়ার উপলব্ধি করেন সামরিক অভ্যুত্থান ছাড়া সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি মাত্র চার দিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে তিনিও পাল্টা এক অভ্যুত্থানের শিকার হয়েছিলেন যা খালেদ মোশাররফের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

5 views

Related Questions