1 Answers

তথ্য-১ পাকিস্তান শাসনামলে সংঘটিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত বহন করে।
পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে প্রথমেই ভাষার ওপর আঘাত হানে। তারা শুধুমাত্র উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রতিবাদে তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুর হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। এভাবে ধীরে ধীরে ভাষা আন্দোলনের গতি বাড়তে থাকে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে দেশব্যাপী হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। এর নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে শহিদ হন। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালের সংবিধানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়।
উদ্দীপকের তথ্য-১-এ তমদ্দুন মজলিশ, ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত, শব্দগুলোর উল্লেখ আছে। এগুলো উপরে আলেচিত ভাষা আন্দোলনের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

4 views

Related Questions