1 Answers
"কুসংস্কার সমাজের একটি প্রধান অন্তরায়"- উক্তিটি যথার্থ।
কুসংস্কার একটি বড় সামাজিক সমস্যা। কুসংস্কার বলতে বোঝায় কোনো অযৌক্তিক বিশ্বাস বা অভ্যাস যা অজ্ঞতা থেকে উদ্ভুত এবং যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কুসংস্কারকে অন্ধবিশ্বাসও বলা হয়ে থাকে। কারণ, কুসংস্কার হলো বুদ্ধি, বিবেচনা ও যুক্তিতর্কের বাইরে মানবমনের এক ধরনের বিশ্বাস যার কোনো ভিত্তি নেই। সমাজের অগ্রগতির ধারায় এটি এক বিরাট অন্তরায়। কুসংস্কারের প্রভাবে মানুষের মনে যে সংকীর্ণতা দেখা দেয় তা প্রতিফলিত হয় তার আচরণ ও কাজকর্মে। কুসংস্কারে বিশ্বাসের কারণে মানুষ যুক্তি ও প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধান করে না। ফলে সমাজ আলোর পথে এগোতে পারে না।
আমাদের সমাজের প্রচলিত কিছু কুসংস্কারের মধ্যে একটি হলো নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নকে নেতিবাচক মনে করা। এক শ্রেণির লোকের এমন বিশ্বাসের ফলে অনেক নারী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে সমাজের উন্নয়নে তারা পুরুষের সাথে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে না। অথচ সমাজের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীদের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড থেকে বাইরে রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। কুসংস্কারের কারণে অনেক মানুষ আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে চায় না যা অনেক সময় এমনকি প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ প্রথাগত নিয়মের বাইরে যেতে চায় না। ফলে সমাজ প্রগতির আলো থেকে বঞ্চিত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কুসংস্কার একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। কুসংস্কারে বিশ্বাসীরা যুক্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত বিষয়কেও অস্বীকার করেন। তাই একথা যথার্থ যে, কুসংস্কার সমাজের একটি প্রধান অন্তরায়।