1 Answers

উদ্দীপকের রহমান সাহেবের কর্মকাণ্ড আমার পাঠ্যবইয়ের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৭৯৩ সালে নির্দিষ্ট রাজস্বের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, সেটিই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। উদ্দীপকে এ ব্যবস্থার চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহমান সাহেব তার গার্মেন্টস কারখানা থেকে ঝামেলাহীনভাবে নির্দিষ্ট আয় পেতে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছরের জন্য ম্যানেজারকে বরাদ্দ দেন। ম্যানেজার অতিরিক্ত লাভের আশায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করেন। কিন্তু তিনি কারখানার উন্নয়নের কোনো চেষ্টা করেন না। অবশেষে রহমান সাহেব কারখানাটি ম্যানেজারকে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেন। একইভাবে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। এই ব্যবস্থায় জমিদাররা উচ্চহারে জমির বন্দোবস্ত নিলেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় হতো না। কোম্পানিকে রাজস্ব দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনে নির্যাতন করে অর্থ আদায় করতেন। অথচ কৃষকদের উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না। করের জন্য নির্যাতনের ভয়ে অনেক কৃষক জমি ছেড়ে পালিয়ে যেত। পাঁচসালা বন্দোবস্ত ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ১৭৮৯ সালে কর্নওয়ালিস জমিদারদের দশ বছরের জন্য জমি লিজ দিয়ে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দিয়ে দশসালা বন্দোবস্তুকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

4 views

Related Questions