1 Answers

উদ্দীপকে ভারতে ইংরেজ শাসনামলের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ঘটনা ফুটে উঠেছে। এ ব্যবস্থার ফলে ইংরেজ শাসক ও জমিদারদের বেশকিছু সুবিধা হয়েছিল।
রাজস্ব আদায়ের জন্য ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক গৃহীত পাঁচসালা ও একসালা বন্দোবস্ত ব্যর্থ হলে ১৭৮৯ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস জমির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত হিসেবে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। দশশালা বন্দোবস্ত কোম্পানির ডাইরেক্টর সভার অনুমোদন পেলে ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস একে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ঘোষণা করেন।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কিছু সুফল ছিল। এ ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায় সুনির্দিষ্ট হওয়ায় সরকার তার আয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। যে কারণে বাজেট প্রণয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে সহজ হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদাররা কোম্পানির একনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে ওঠে যা ভারতে ব্রিটিশ শাসন সুদৃঢ় ও দীর্ঘায়িত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জমির ওপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা স্বীকৃত হওয়ার কারণে অনেকেই নিজ এলাকায় নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে ব্রতী হন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, উপাসনালয় প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়া প্রজাদের কল্যাণের জন্য রাস্তাঘাট, সেতু তৈরি, পুকুর খননের মতো কাজ ছাড়াও অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত হন। জমিদাররা পতিত জমি চাষের ব্যবস্থা করেন। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং গ্রামীণ সমাজ পরিবর্তিত হতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। এ ব্যবস্থা এদেশে ব্রিটিশ শাসন সুদৃঢ়করণে ভূমিকা রেখেছিল। তবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধাও পরিলক্ষিত হয়।

5 views

Related Questions