1 Answers

উদ্দীপকের ৫ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনাকে নির্দেশ করে। ওই ঘটনার মাধ্যমে প্রকৃতই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। খুনিচক্রের সহায়তায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। অবৈধ ক্ষমতাকে স্থায়ী করার জন্য তিনিই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন। পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ১৯৭৭ সালের ২৩ এপ্রিল সামরিক ফরমান জারি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত বাহাত্তরের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করেন। দেশ পরিচালিত হতে থাকে মেজর জেনারেল জিয়ার সামরিক ফরমান অনুযায়ী। জিয়ার সামরিক সরকার রাজনৈতিক অসন্তোষ হ্রাসের জন্য ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই 'রাজনৈতিক দলবিধি' জারি করে ঘরোয়া রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর

অনুমতি দেন। কিন্তু এই ব্যবস্থা ছিল প্রহসনের। এরপর তিনি এক প্রহসনের গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে জনগণের সমর্থন দেখিয়ে তার অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধ করে নেন। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে জিয়া আবার কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তগত করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক অভ্যুত্থানে কতিপয় সেনাসদস্য জিয়াকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার কিছুদিন পর সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ আরেক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনের মাধ্যমে দেশ চালান।

উপরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের যে ধারা চলমান ছিল তা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ব্যাহত হয়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিভিন্ন সামরিক শাসকের অধীনে শাসিত হয়। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত হয়।

5 views

Related Questions