1 Answers
উদ্দীপক-১ এ ইরার দেখা কাহিনি পলাশি যুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে। উক্ত যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে বিবিধ কারণ দায়ী ছিল।
১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার সিংহাসনে বসার পর কোনো উপঢৌকন পাঠায়নি এবং কোনো সৌজন্যমূলক সাক্ষাত করেননি। ইংরেজদের এ বেয়াদবিতে নবাব ক্ষুদ্ধ হন। নবাবের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইংরেজরা কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখলে নবাব অসন্তুষ্ট হন। ইংরেজ কোম্পানি নবাবের আদেশ অমান্য করে দস্তকের অপব্যবহার করলে দেশীয় বণিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। পাশাপাশি আলীবর্দি খানের সঙ্গে চুক্তির শর্তভঙ্গ করে ইংরেজরা নবাবকে কর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয় জনগণকে নির্যাতন করার মতো ধৃষ্টতাও তারা দেখাতে থাকে। সর্বোপরি রাজা রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস তার পরিবারের সদস্যদেরসহ প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে কোলকাতায় ইংরেজদের কাছে আশ্রয় নিলে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য নবাব ইংরেজদের নিকট দূত পাঠান। কিন্তু ইংরেজ গভর্নর নবাবের দূতকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এতে নবাব ক্ষুব্ধ হন এবং যার শেষ পরিণতি হয় পলাশির যুদ্ধ।
উদ্দীপক-১ এ ইরা হিস্ট্রি চ্যানেলে বাংলার রাজার সাথে এক বিদেশি শক্তির যুদ্ধের কাহিনি দেখছিল। নদী তীরের এই যুদ্ধ ক্ষেত্রে বাংলার রাজার পক্ষে তার বিশ্বস্ত সেনাবাহিনী ও এক বিদেশি সেনাপতি যুদ্ধ করলেও রাজার এক প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি পরাজিত হন। পলাশির যুদ্ধেও অনুরূপভাবে নবাবের পক্ষে মীর মদন, মোহনলাল ও ফরাসী সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন কিন্তু মীর জাফরের অসহযোগিতার কারণে যুদ্ধে পরাজিত হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১ এ ইরার দেখা কাহিনি পলাশি যুদ্ধেরই ইঙ্গিতবহ।