1 Answers

দোকানির বক্তব্যে মধ্যযুগের কৃষি অর্থনীতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতি অনেক সমৃদ্ধ ছিল। বাংলার মাটি উর্বর হওয়ায় এখানে অনেক রকম ফসল উৎপন্ন হতো। এ সকল ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধান, গম, তুলা, ইক্ষু, পাট, আদা ইত্যাদি। কৃষিজাত দ্রব্যের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, শসা ইত্যাদি। আম, কাঁঠাল, কলা প্রভৃতি ফলমূলের ফলনও ছিল প্রচুর। প্রচুর ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি এ সময়ে দ্রব্যও ছিল অত্যন্ত সস্তা। এ সময় টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। সব ধরনের দ্রব্যই ছিল সর্ব সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। এ ব্যাপারে চৌদ্দ শতকের বিখ্যাত ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা বলেন, সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে বাংলাতেই সবচেয়ে সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যেত। কৃষির সাথে সাথে এ সময় বাংলায় বস্ত্রশিল্পের অগ্রগতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মধ্যযুগে বাংলার রকমারি ক্ষুদ্র শিল্পের কথা জানা যায়। বাংলার কৃষি ও শিল্প পণ্যের প্রাচুর্য এবং বিদেশে এগুলোর ব্যাপক চাহিদার ফলে বিদেশের সাথে বাংলার বাণিজ্যিক তৎপরতা মধ্যযুগের মুসলমান শাসনামলে অভূতপূর্ব প্রসার লাভ করেছিল।
উদ্দীপকের আনিস চালের কেজি ৩০ টাকা বললে দোকানি প্রতি উত্তরে বলেন, এটা কি শায়েস্তা খানের আমল পাইছেন। আমরা জানি শায়েস্তা খান ছিলেন মধ্যযুগের শাসক এবং তার আমলেই খুব সস্তায় দ্রব্যাদি পাওয়া যেত। তাই বলা যায়, উদ্দীপক দ্বারা মধ্যযুগের কৃষি অর্থনীতির ইঙ্গিত করা হয়েছে।

4 views

Related Questions