1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গোপালকে রাজা নির্বাচিত করেছিলেন।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার ক্ষমতায় বসার মধ্য দিয়ে এখানে একশ বছর ধরে চলা চরম অরাজক 'মাৎস্যন্যায়' যুগের অবসান ঘটে। গোপালের মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন ধর্মপাল (৭৮১-৮২১)। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। উদ্দীপকেও অনুরূপ চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি রাজ্যে যোগ্য শাসকের অভাবে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় শত বছর পর ঐ রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আলোচনার মাধ্যমে সবার মতামতের ভিত্তিতে একজনকে রাজা নির্বাচিত করেন। অনুরূপভাবে সুশাসক শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগের সূচনা হয়। দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। একদিকে হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মনের আক্রমণে গৌড় রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, অন্যদিকে ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার আশায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিল না। এ সময়কালকে পাল তাম্রশাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে। দীর্ঘদিনের অরাজকতায় বাংলার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। এ চরম দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তিলাভের আশায়ই দেশের প্রবীণ নেতারা গোপালকে রাজপদে নির্বাচিত করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলায় পাল রাজত্বের শুরু হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গোপালের নির্বাচনের কাহিনিই ফুটে উঠেছে।